‘বেপরোয়া’ বাইক চালানোর প্রতিবাদ করায় রাজধানীর উত্তরায় মেহেবুল হাসান ও তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার ইপ্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সরাসরি আঘাত করা আলফাজ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানান উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি হাফিজুর রহমান।
এই ঘটনায় সোমবার রাতেই রবি রায় (২২) ও মো. মোবারক হোসেন (২৫) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সবশেষ ২৩ বছর বয়সী আফলাজসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করার পর ওসি হাফিজুর বলেছেন, এ ঘটনায় জড়িত আরও তিনজন পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওই দম্পতিকে যে দুইজন সরাসরি কোপ দিয়েছে তাদের মধ্যে আলফাজ একজন, আরেকজন পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তাররা প্রাথমিকভাবে ঘটনার দায় স্বীকার করেছে।
সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ৯ নম্বর রোডে ‘বেপরোয়া’ চালিয়ে যাওয়া একটি মোটরসাইকেল একটি রিকশাকে ধাক্কা দেয়। সেখানে আরেকটি মোটরসাইকেলে থাকা মেহেবুল ও নাসরিন দম্পতিও এর প্রতিবাদ জানান।
এরপর রিকশায় ধাক্কা দেওয়া বাইকের আরোহীরা ওই দম্পতিকে হুমকি দেয় ও একপর্যায়ে কিল-ঘুসি মারে। পরে তারা ফোন করে আরও কয়েকজনকে ডেকে আনলে তারা অস্ত্রসহ ওই দম্পতির ওপর চড়াও হয়।
ওসি হাফিজুর বলেন, “আহত দম্পতি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তারা শঙ্কামুক্ত। এ ঘটনায় ভিকটিম নাসরিন আক্তার ইপ্তি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেছেন।”
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই দম্পতি রাত ৯টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন আমির কমপ্লেক্স থেকে কেনাকাটা করে বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ৭ নম্বর সেক্টরের ৯ নম্বর রোডের ১০ নম্বর বাসার সামনে পৌঁছালে দেখতে পান, তিন ব্যক্তি দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে বিকট শব্দ করে দ্রুত গতিতে এলোমেলোভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল সামনে থাকা একটি রিকশাকে ধাক্কা দিলে ওই রিকশার যাত্রীর সঙ্গে মোটরসাইকেল চালক গ্রেপ্তার মোবারক হোসেনের বাকবিতন্ডা শুরু হয়।
এ সময় রিকশার পিছনে থাকা মেহেবুল ও নাসরিন দম্পতি তাদের ‘ঝামেলা করতে নিষেধ’ করলে একপর্যায়ে ‘সন্ত্রাসীরা’ তাদের মারপিট করতে থাকে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত সজিব মোবাইলে ফোন করে তার সহযোগিদের ঘটনাস্থলে আসতে বলে।
এর প্রায় ১০ মিনিট পর ৪/৫ জন ‘সন্ত্রাসী’ দেশীয় অস্ত্র রামদাসহ ঘটনাস্থলে এসে মেহেবুল হাসানকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এ সময় নাসরিন আক্তার ইপ্তি তার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করলে ‘সন্ত্রাসীরা’ তাকেও রামদা দিয়ে আঘাত করে।
পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় রবি ও মোবারককে গ্রেপ্তার করলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। এরপর পুলিশ আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়, তারা বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও রাতেই ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যপক সমালোচনা শুরু হয়। মাত্র ১৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কে একটি বাড়ির দেয়াল ঘেঁষে ফুটপাতে পাশাপাশি থাকা এক নারী ও এক পুরুষকে আঘাত করছেন দুই যুবক। একপর্যায়ে হামলাকারী দুই যুবককে রামদা হাতে নিয়ে ফুটপাত ধরে সামনের দিকে চলে যেতে দেখা যায়।







