সদ্যগত বিপিএলে আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হোস্টদের ঘিরে। সবার থেকে এগিয়ে ছিলেন চিটাগং কিংসের হোস্ট ইয়াশা সাগর। কিংসের খেলা শেষ হওয়ার আগেই অবশ্য বাংলাদেশ ছাড়েন কানাডিয়ান বংশোদ্ভূত ভারতীয় ইয়াশা, অভিযোগ করেছিলেন নিরাপত্তা নিয়ে। তবে তার বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ তুলেছে চিটাগং কিংস।
বিবৃতিতে কিংস কর্তৃপক্ষ ইয়াশার বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেছে, ‘আমরা অত্যন্ত হতাশার সাথে জানাচ্ছি যে, বিপিএল চলাকালীন কিংসের হোস্ট ইয়াশা সাগর অপেশাদার আচরণ করেছেন। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজির অনুমতি বা কোনো বিবৃতি ছাড়া বাংলাদেশ থেকে চলে গেছেন যা তার চুক্তির লঙ্ঘন।’
‘ইয়াশা সাগর এখন নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তুলছেন, যদি সেটা সত্যি হয় তাহলে পুরো একমাস তিনি কীভাবে বাংলাদেশে থাকলেন এবং লিগে কর্মকাণ্ড চালালেন যা গুরুত্ব্পূর্ণ একটি বিষয়। এটা স্পষ্ট যে, তার আকস্মিক চলে যাওয়া নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে নয় বরং চিটাগং কিংসের প্রতি তার পেশাদার প্রতিশ্রুতিকে উপেক্ষা করা। ভারতের লিজেন্ডস নাইন্টি লিগে যোগদানের পূর্ব পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। অধিকন্তু, তিনি ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখ চলে গেছেন যেখানে মনে করেছিলেন চিটাগং কিংস ফাইনালে কোয়ালিফাই করতে পারবে না। এ ইচ্ছাকৃত কাজটি কেবল ফ্র্যাঞ্চাইজির খ্যাতিই ক্ষুণ্ন করে না, বরং তার পেশাদার সততাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ইয়াশা ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে তার পাসপোর্ট জমা দেন। ২৪ এবং ২৫ জানুয়ারি ছিল সরকারি ছুটির দিন। ২৪ জানুয়ারি দল ঢাকায় পৌঁছে তার ভিসার কার্যক্রম শুরু করে। তবে সরকারি ছুটি এবং প্রয়োজনীয় সময় বিবেচনায় ২৮ জানুয়ারি তার পাসপোর্ট ফেরত চাওয়া অযৌক্তিক ছিল।’
চুক্তি লঙ্ঘন হলে কী ব্যবস্থা সে প্রসঙ্গেও বক্তব্য দিয়েছে কিংস, ‘তার সঙ্গে করা চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, চুক্তি লঙ্ঘনের ফলে জরিমানা বা তার চুক্তি স্থগিত করা হবে। আসরের মাঝামাঝি ফ্র্যাঞ্চাইজি ছেড়ে চলে যাওয়া, চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়া এবং ছাড়পত্র ছাড়াই অন্যকোনো ইভেন্টে জড়িত হওয়া তার পেশাদারিত্ব এবং চুক্তির শর্তাবলীর স্পষ্ট লঙ্ঘন। চুক্তিতে ছিল লিগ শেষ হওয়ার পরের সপ্তাহে ৫০ শতাংশ অর্থ দেয়া হবে। তবে তিনি সেটা না মেনে কাজ শেষ না করেই চলে যান।’
‘ইয়াশা সাগরের চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, অসদাচরণ বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজি তার চুক্তি বাতিল করার অধিকার রাখে। ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তাদের না জানিয়ে নিজস্ব সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ছাড়া এবং বিষয়টি সমাধানের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও অস্বীকৃতি জানানো তার পেশাদারিত্বের অভাব। ইয়াশা সাগর যদি বিশ্বাস করেন যে, তিনি সৎ থেকে কাজ করেছেন, তাহলে তার বাংলাদেশে থাকা উচিত ছিল, আমাদের আইনি নোটিশের জবাব দেয়া উচিত ছিল এবং বিপিএল চলাকালীন অন্য লিগে চলে যাওয়ার পরিবর্তে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়া উচিত ছিল।’








