চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম লেগের পর স্প্যানিশ সম্প্রচারকারী টিভি নেটওয়ার্ক মুভিস্টারের সাক্ষাৎকার বয়কট করেছে বার্সা-পিএসজি। এক অনুষ্ঠানে একজন বিশ্লেষক বার্সা ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামালকে নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করায় দুদল এমন সিদ্ধান্ত নেয়।
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে ডিয়েগো সিমিওনের সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক মনো বার্গোস বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন। বর্ণবাদী মন্তব্যের শিকার ইয়ামাল স্পেন জাতীয় দলের হয়ে খেললেও তার বাবা মরক্কো ও মা গিনির নাগরিক।
১৬ বর্ষী ইয়ামালের পারফরম্যান্সের বিশ্লেষণে একপর্যায়ে বার্গোস বলেন, ‘ফুটবল যদি তাকে দিয়ে না হয়, তাহলে সে একজন ট্রাফিক সংকেতকারী হিসেবে কাজ করতে পারে। যারা নিরীহ চালকদের কাছ থেকে অবৈধ পন্থায় অর্থ নেয়ার জন্য তাদের ট্রাফিক সংকেতে আটকায়।’ ইঙ্গিতপূর্ণ এই মন্তব্যটি করা হয়। যা ছিল বর্ণবাদী এবং শ্রেণি-বৈষম্যমূলক।
বার্গোসের এমন কাণ্ডের পর বার্সা ও পিএসজির পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়, তাদের কোনো খেলোয়াড়-কোচ মুভিস্টারকে সাক্ষাৎকার দেবেন না। বিষয়টি নিশ্চিত করে সম্প্রচারকারী টিভি নেটওয়ার্কটির প্রতিবেদক রিকার্ডো সিয়েরা বলেন, ‘উয়েফা, পিএসজি এবং বার্সা আমাদের জানিয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের সাথে কথা বলবে না। কারণ তারা খেলার আগে স্টুডিওতে করা একটি মন্তব্যে ক্ষুব্ধ। এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়া হবে না। তাই আমি এখান থেকে ক্ষমাপ্রার্থী, আমাদের স্টুডিওতে ফিরে যাওয়া উচিৎ।’
পরে অবশ্য বার্গোস ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘এটা কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য ছাড়াই একটি মন্তব্য ছিল। আমরা ফুটবল নিয়ে কথা বলি, অন্যকিছু নয়। যদি তিনি (ইয়ামাল) বিরক্ত বোধ করেন, তবে আমি দুঃখিত এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইছি। বর্ণবাদী মন্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল না। মাঝে মাঝে হাস্যরস আপনাকে সমস্যায় ফেলে দেয়। এই সময়ে আপনাকে সবকিছুর সাথে মানিয়ে নিতে হবে এবং আমরা সেটাই করছি।’
মুভিস্টার বিবৃতিতে ক্ষমা চেয়ে বলেছে, ‘আমরা যেকোনো ধরনের বৈষম্যের নিন্দা জানাই এবং প্ল্যাটফর্মের সাথে যুক্ত কোনো কর্মচারী বা সহযোগীকে এধরনের মন্তব্যের অনুমতি দেয়া হবে না। এ ঘটনাগুলোর যাতে আর পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিশ্চিতের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’
ইয়ামাল ১৬ বছর ২৭২ দিন বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামেন। তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে কোয়ার্টারে খেলার কীর্তি গড়েছেন। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে বার্সার হয়ে রাফিনহার গোলে তার ভূমিকা ছিল।








