বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আমরা যদি সচেতন না হই তাহলে কখনো পরিবেশ সুন্দর হবে না।
তিনি বলেন, নদী ও প্রাণ প্রকৃতি এবং পরিবেশকে মাঝখানে রেখে আমাদের উন্নয়ন করতে হবে।
রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘নদী একটি জীবন্ত সত্তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ব নদী দিবসে নদী উপলক্ষে নদী ও প্রাণ প্রকৃতি সুরক্ষা বিষয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে নদীপ্রেমী সংগঠন নোঙর।
আলোচনা সভার শুরুতে বিজয়ী ১২ জন শিশু কিশোরদের হাতে পুরস্কার হিসাবে রংপেন্সিল, রংতুলি এবং ছবি আঁকার সরঞ্জাম তুলে দেয়া হয়।
সেসময় সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমরা যদি বাতাস নিয়ে কথা বলি পানি নিয়ে কথা বলি এগুলোর কোনোটি না হলে আমাদের চলে না। আমরা যদি বাতাস নষ্ট করে ফেলি, নদীর পানি নষ্ট করে ফেলি তাহলে আমাদের চলেনা। এই মুহূর্তে ঢাকা নগরী পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত নগরীর একটি হওয়ায় আমাদের ৮ বছর আয়ু কমে যাচ্ছে এবং আমাদের জাতীয় আয়ের চার ভাগ কমে যাচ্ছে। সুতরাং নদী ও প্রাণ প্রকৃতি এবং পরিবেশকে মাঝখানে রেখে আমাদের উন্নয়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরাও ছোট বেলায় চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতাম তখন আমাদের বিষয় ছিল নৌকা বাইচ, কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে যে তোমাদেরকে নদী দখল দূষণ নিয়ে ছবি আঁকতে হচ্ছে। আমরা যদি সচেতন না হই তাহলে কখনো পরিবেশ সুন্দর হবে না।
বিশেষ অতিথি রিভার অ্যান্ড ডেলটা রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ বলেন, নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় যে নিদর্শনা ঘোষণা করছে তা বাস্তবান করতে নোঙর বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। দেশের কোন নদীতে কী পরিমাণে বালু আছে, সেগুলোর কতটুকু উত্তোলন করা যাবে এবং কোথা থেকে তোলা উচিত এ ব্যাপারে কোনো সমীক্ষা নেই। অথচ সরকার দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর ৭০৭টি স্থানকে বালুমহাল ঘোষণা করেছে। এর ৫৪ শতাংশ আবার বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। এগুলোর বাইরেও ৭৭টি নদীর ১৪২টি এলাকা থেকে প্রভাবশালীরা বালু উত্তোলন করাী কারণে নদী ও বসতি এলাকায় পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে নোঙর সভাপতি সুমন শামস বলেন: আমাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। কিন্তু দেশের নদী দখল-দূষণকারীদের কবলে পড়ে দেশের অধিকাংশ নদ নদ দখল-দূষণের মাধ্যমে হত্যা করার কাজ চলমান আছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হলে দেশের সকল রাজনৈতিক দলের নিবার্চনী ইশতেহারে নদী ও প্রাণ প্রকৃতি নিরাপত্তার নিশ্চিয়তা নিশ্চিত করতেই হবে।
তিনি বলেন: নদীমাতৃক বাংলাদেশের সকল নদী ও প্রাণ প্রকৃতি সংরক্ষণের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় এবং সকল শ্রেণির পেশার মানুষের সাথে আগামী প্রজন্মের সংযোগ ঘটাতে এ আয়োজন চলমান থাকবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বায়ুমন্ডলীয় ধূলাদূষণ কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান প্রফেসর আহম্মেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, ওয়াটার কিপার্স এর প্রতিনিধি ইবনুল সাইদ রানা, পরিবেশ আইনবিদ এডভোকেট শফিক রহমান, পরিবেশবিদ আবদুল ওহাব, পরিবেশ আন্দোলনের মোহাম্মদ সেলিম, ক্লিন রিভার বাংলাদেশ এর সভাপতি সোহাগ মহাজন, নোঙর নির্বাহী সদস্য নজির আহমদ সিমাব, আশরাফুল কবির কনক, ফজলে সানি, আমিনুল হক চৌধুরীর, কামাল মুস্তফা, বাহারুল ইসলাম টিটু এবং কামাল মুস্তফা।
গত শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন শিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন আহমেদ নোঙর এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির শিশু কিশোরদের কাছে নদী ও প্রাণ প্রকৃতির সাথে সংযোগ ঘটাতে এক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।








