সাংবাদিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে শৃঙ্খলা আনার কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। তিনি বলেছেন, বিটিভিসহ তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ১৫টি ডিপার্টমেন্টের দিকেই তাকাব। সবগুলোর ভেতরে ঢুকব, শুধু ভেতরেই ঢুকব না একেবারে তলদেশ পর্যন্ত যাব। ভেতর থেকে আমার সাধ্যের মধ্যে, সামর্থ্যের মধ্যে যতটুকু পরিবর্তন-পরিবর্ধন, সংস্কার করার সুযোগ আছে সবগুলোই করব।
সম্প্রতি সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত বিএসআরএফ এর এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, কারা কত ক্রোড়পত্র পেয়েছে তা এক্সেল সিটের মাধ্যমে মেন্টেইন করি। কাছাকাছি সার্কুলেশনের দুটি পত্রিকার মধ্যে একটি পত্রিকা কম পেলে পরে তা ব্যালেন্স করার চেষ্টা করি। আমি ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করি। ৬০-৭০ শতাংশ সিদ্ধান্ত সার্কুলেশনের ওপর ভিত্তি করে নিই। কারণ এখানে সরকারের স্বার্থ আছে, বেশির ভাগ মানুষের হাতে এটি আমি পৌঁছাতে চাই।
তিনি বলেন, কিছু পত্রিকা আছে সার্কুলেশনের চ্যালেঞ্জ আছে, কিন্তু তার একটি ইতিহাস ঐতিহ্য আছে, কিছু পত্রিকা আছে সার্কুলেশনের চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেখানে নামকরা সম্পাদক আছে, যার নিজের ইতিহাস-ঐতিহ্য ব্র্যান্ডিং আছে, এগুলোকে যাচাই বাছাই করে ব্যালেন্স করে ক্রোড়পত্র দিয়েছি, কোনো ব্যক্তির সুপারিশে ক্রোড়পত্র দিইনি। সুপারিশ করেছে, নিয়েছি, দেখেছি, কিন্তু দিন শেষে আমার যে ফর্মুলা সেটি অ্যাপ্লাই করেছি।
সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি নিয়ে এ মুহূর্তে আমি বলতে পারব না, আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এ মুহূর্তে আমি গণমাধ্যমকর্মী আইন নিয়ে কাজ করছি। গণমাধ্যমকর্মী আইন পাস হলে এটি মোটামুটি সবকিছু কাভার করে ফেলবে। কারণ এখানে অনলাইন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মোটামুটি সবকিছুই কাভার করবে।
বাজেট নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর ভাবনা
প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বেশ আশাবাদি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। তিনি বলেছেন, সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে জনদুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য একটি সংকোচনমূলক বাজেট প্রস্তাব করেছে।
তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জনদুর্ভোগ কমাতে আগামী অর্থবছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।’
জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, কোভিড-১৯ এর বৈশ্বিক মহামারির পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি বিশ্বজুড়ে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ সেই পরিস্থিতির বাইরে নয়। সরকার মূল্যস্ফীতি রোধে আগামী অর্থবছরের জন্য সংকোচনমূলক বাজেট প্রস্তাব করেছে।
তিনি বলেন, আমরা এর আগে দেখেছি যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার সাধারণত প্রতি বছর বাজেটের আকার ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি করে, কিন্তু এবার বাজেটের আকার বেড়েছে মাত্র ৬ শতাংশ।
প্রস্তাবিত বাজেটকে জনবান্ধব উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সংকোচনমূলক বাজেটেও আমরা দেখলাম সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং বাজেটে নিম্ন আয়ের মানুষের ভোগান্তি কমাতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই বাজেটে উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর উচ্চ কর আরোপ এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য তাদের আয়ের অনুপাত অনুযায়ী কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।







