ভারত, গোয়া থেকে: সাউথ গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়াম স্থানীয়ভাবে ফাতোর্দা স্টেডিয়াম নামে পরিচিত যা গোয়ার একমাত্র আন্তর্জাতিক মানের বহুমুখী ক্রীড়া স্টেডিয়াম। এটি গোয়ার মারগাওয়ের ফাতোর্দায় অবস্থিত।
তৎকালীন গোয়ার ক্রীড়ামন্ত্রী মন্তে ডি’ ক্রুজের তত্ত্বাবধানে মাত্র ছয় মাসের রেকর্ড সময়ে স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয় এবং ১৯৮৯ সালে উদ্বোধন করা হয়। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর নামানুসারে এই স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয়েছে।
পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়াম স্পোর্টস অথরিটি অফ গোয়া (এসএজি) এর মালিকানাধীন এবং তাদের দ্বারাই পরিচালিত হয়। বর্তমানে স্টেডিয়ামটির সাধারণ দর্শক ধারণক্ষমতা ১৯ হাজার। তবে ফিফা টুর্নামেন্টের সময় প্রায় ২০ হাজার আসনে উন্নীত করা হয়।
ভারতের খুব কম স্টেডিয়ামেই দর্শকদের বসার পুরো জায়গায় ছাদের সুবিধা রয়েছে। ফাতোর্দা স্টেডিয়ামের গ্যালারির শতভাগ অংশই আধুনিক ছাদ দ্বারা আবৃত, যা তীব্র রোদ বা গোয়ার ভারী বর্ষণের সময়ও দর্শকদের আরামদায়কভাবে খেলা দেখার সুযোগ করে দেয়।
মূলত এটি ফুটবলের জন্য একটি বিখ্যাত ভেন্যু এবং ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম সেরা রক্ষণাবেক্ষণ করা মাঠ। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের জনপ্রিয় দল এফসি গোয়ার প্রধান হোম গ্রাউন্ড। তাছাড়া আই-লিগের চার্চিল ব্রাদার্স, ডেম্পো এসসি এবং সালগাওকর এফসির মতো দলগুলোও এখানে খেলে থাকে।
শুরুতে শুধু ফুটবলের জন্য তৈরি হলেও পরবর্তীতে এখানে ক্রিকেটের পিচ বসানো হয়। স্টেডিয়ামে এপর্যন্ত ৯টি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজিত হয়েছে। প্রথম ওডিআই ম্যাচটি ১৯৮৯ সালের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
স্টেডিয়ামটি ২০১৭ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আয়োজন করেছে। এছাড়া এখানে রেকর্ড সংখ্যক আইএসএল ফাইনাল ম্যাচ (২০১৫, ২০২০, ২০২১, ২০২২, এবং ২০২৩) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি ২০১৪ সালের লুসোফোনিয়া গেমসের মূল ভেন্যু ছিল।
পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়াম ভেন্যুটি শুধু ঘরোয়া ফুটবল নয়, আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলেরও বড় কেন্দ্র। এটি এফসি গোয়ার হোম গ্রাউন্ড হিসেবে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-২ এর মতো মর্যাদাপূর্ণ মহাদেশীয় টুর্নামেন্টের ম্যাচ সফলভাবে আয়োজন করেছে।
২০২২ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপের আগে এখানে ভারতের প্রথম হাইব্রিড পিচ স্থাপন করা হয়, যা প্রাকৃতিক ঘাস ও কৃত্রিম তন্তুর মিশ্রণ। স্টেডিয়ামে বিশ্বমানের ফ্লাডলাইট, উন্নত ড্রেসিংরুম, ডোপিং কন্ট্রোল রুম, মেডিকেল সেন্টার, কর্পোরেট বক্স এবং ভিআইপি লাউঞ্জ রয়েছে। তাছাড়া স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের ভেতরে একটি সুইমিং পুল এবং মাল্টিপারপাস জিমনেসিয়াম রয়েছে।
স্টেডিয়ামটির পশ্চিম দিকের প্রধান গ্যালারি বা স্ট্যান্ডটিকে সম্প্রতি অফিসিয়ালি ফ্রান্সিসকো মন্তে ডি’ক্রুজ স্ট্যান্ড নামে নামকরণ করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালে মাত্র ৬ মাসে এই স্টেডিয়াম তৈরিতে অসামান্য অবদান রাখার জন্য গোয়ার তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রীকে এই সম্মান দেয়া হয়।
স্টেডিয়ামের ঠিক গা ঘেঁষেই রয়েছে গোয়ার প্রাচীন ও বিখ্যাত ‘শ্রী দামোদর লিঙ্গ দেবস্থান’ মন্দির। ম্যাচ বা টুর্নামেন্ট চলার সময় স্টেডিয়ামের আধুনিক ফ্লাডলাইটের আলো এবং মন্দিরের ঐতিহ্যবাহী আরতির আলো একসাথে এক দারুণ বৈচিত্র্যময় আধ্যাত্মিক ও ক্রীড়া আবহের সৃষ্টি করে, যা গোয়ার সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক।
২০১৪ সালে এই স্টেডিয়ামে বসেছিল ‘লুসোফোনিয়া গেমস’ এর আসর। এটি মূলত বিশ্বের পর্তুগিজভাষী দেশগুলোর একটি অলিম্পিক-স্টাইল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। গোয়া একসময় পর্তুগিজ উপনিবেশ ছিল বলে এই স্টেডিয়ামটিকে বিশেষভাবে সাজানো হয় এবং পর্তুগাল, ব্রাজিল, অ্যাঙ্গোলাসহ বিভিন্ন দেশের অ্যাথলেটরা এই মাঠে অংশ নেন।







