চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Channeliadds-30.01.24Nagod

মৃত স্বামীর কণ্ঠ শুনতে ১৬ বছর ধরে স্টেশনে যান স্ত্রী

লন্ডনের বাসিন্দা মার্গারেট ম্যাকালামের স্বামী মারা গেছেন ২০০৭ সালে। এই ১৬ বছরে স্বামীকে দেখতে না পেলেও রোজ তার কণ্ঠ শুনতে এমব্যাঙ্কমেন্ট মেট্রো স্টেশনে আসেন মার্গারেট।

 

 

মার্গারেটের স্বামী অসওয়াল্ড লরেন্স ছিলেন থিয়েটারের অভিনেতা। লন্ডনের মেট্রো তথা আন্ডারগ্রাউন্ডের ঘোষক ছিলেন তিনি। ১৯৫০ সালে তাঁর কণ্ঠস্বরে রেকর্ড করা হয়েছিল ‘অনুগ্রহ করে দূরত্ব বজায় রাখুন’।

 

 

৮৬ বছর বয়সে অসওয়াল্ড লরেন্স মারা গেলে শোকে ভেঙে পরেন স্ত্রী মার্গারেট ম্যাকালাম। সে সময় মার্গারেটের মনখারাপের সঙ্গী হয় মেট্রো স্টেশনে বাজতে থাকা স্বামীর কণ্ঠস্বর। সেই থেকে রোজ এমব্যাঙ্কমেন্ট মেট্রো স্টেশনে গিয়ে বসে থাকতেন মার্গারেট। বার বার শুনতেন স্বামীর কণ্ঠে ঘোষণা।

 

 

২০১২ সালের নভেম্বর মাস। এক দিন এমব্যাঙ্কমেন্ট স্টেশনে বসেছিলেন মার্গারেট। হঠাৎ তিনি লক্ষ করেন, মেট্রো স্টেশনে আর শোনা যাচ্ছে না লরেন্সের কণ্ঠস্বরে ঘোষণা। যোগাযোগ করেন মেট্রোরেলের কর্তাদের সাথে।

Reneta April 2023

 

 

তখন কর্মকর্তা জানান, নতুন ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘোষণা হচ্ছে মেট্রো স্টেশনে। সেই ব্যবস্থায় লরেন্সের কণ্ঠস্বর আর ব্যবহার করা হচ্ছে না। মার্গারেট কর্তৃপক্ষকে জানান, স্বামীর কণ্ঠস্বর শুনবেন বলে তিনি রোজ এমব্যাঙ্কমেন্ট স্টেশনে এসে বসে থাকতেন। মার্গারেটের ভালোবাসার কথা জেনে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।

 

 

তাঁরা লরেন্সের ঘোষণার রেকর্ড মার্গারেটকে দেন। পাশাপাশি স্থির করেন, অন্তত এমব্যাঙ্কমেন্ট স্টেশনে যাত্রীদের সতর্ক করবে লরেন্সের কণ্ঠস্বর। লন্ডনের মেট্রো পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে যে সংস্থা, তার মুখপাত্র বলেন, ‘‘মার্গারেটের কথা আমাদের মন ছুঁয়ে যায়। ওই ঘোষণার রেকর্ডের নকল তৈরি করে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ওই স্টেশনে লরেন্সের কণ্ঠস্বরে ঘোষণা চালু করা হয়।’’

 

 

লন্ডনের সব মেট্রো স্টেশনে এখন ঘোষণা হয় ডিজিটাল প্রযুক্তিতে। এক মাত্র ওয়েস্টমিনস্টারের এমব্যাঙ্কমেন্ট স্টেশনেই রয়েছে গিয়েছে লরেন্সের সেই পুরনো কণ্ঠস্বর।