গ্রুপ অফ সেভেন ( জি-৭ ) হলো একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ফোরাম- যা কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি, জাপান, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করে জি-৭। এই ফোরামের সদস্য দেশ না হয়েও প্রায় প্রতিবছরই যোগদানের আমন্ত্রণ পায় ভারত।
আনন্দবাজার জানিয়েছে, চলতি বছরের জি-৭ বৈঠকের আয়োজক দেশ ছিল ইটালি। আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে যোগ দিয়েছিল ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠকে যোগ দিতে ইটালি গিয়েছিলেন শপথ গ্রহণের পরপরই। ইটালির আপুলিয়া প্রদেশে গত ১৩ থেকে ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হয় এবারের জি-৭ সম্মেলন।
বিশ্ব অর্থনীতিতে বর্তমানে ভারতের গুরুত্ব এবং প্রাসঙ্গিকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধানেও ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান অনেক বেশি কার্যকরী হয়ে উঠেছে। সেই কারণে সদস্য না হলেও জি-৭ এ গুরুত্ব পেয়ে থাকে ভারত।

এই নিয়ে মোট ১১ বার জি-৭ বৈঠকে ডাক পেল ভারত। নরেন্দ্র মোদি পরপর পাঁচ বার জি-৭ এর বৈঠকে যোগ দিলেন। ভারতকে বাইরে রেখে আন্তর্জাতিক সমস্যা সংক্রান্ত আলোচনা করা যাচ্ছে না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
জি-৭ এর কোন সদরদপ্তর নেই। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শহরে জি-৭ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। প্রতি বছরই সদস্য সাত দেশের মধ্যে যে কোনও এক সদস্য সম্মেলনের আয়োজন করে। সে বছর সেই দেশেরই কোনও শহরে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই আয়োজক দেশই সম্মেলনের আলোচ্য বিষয় ঠিক করে। এবার সেই দায়িত্ব ছিল ইটালির।
সত্তরের দশকের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি কিছুটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল। এর অন্যতম কারণ ছিল খনিজ তেলের সঙ্কট। সেই প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছিল জি-৭। ওই সময় অর্থনৈতিক দিক থেকে শক্তিশালী দেশগুলো একটি সংগঠনের আওতায় এসে বিশ্বের অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে শুরুতেই সাতটি দেশ ছিল না।
১৯৭৩ সালে প্যারিসে জি-৭ এর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এর প্রথম বৈঠক হয় ১৯৭৫ সালে। প্রথম বৈঠকে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইটালি, ফ্রান্স এবং জাপান ছিল। পরের বছর যোগ দেয় কানাডা। ১৯৭৭ সালের জি-৭ বৈঠকে যোগ দিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নও। তাদের সদস্য এখনও এই বৈঠকে উপস্থিত থাকে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আলাদা করে জি-৭ এর সদস্য হয়নি।

১৯৯৮ সালে রাশিয়ার যোগদানে জি-৭ পরিণত হয় জি-৮ এ। শক্তিশালী অর্থনীতি হিসেবে এই বৈঠকে তাদের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং ক্রিমিয়া দখলের পর জি-৮ থেকে রাশিয়াকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
গত কয়েক বছর ধরে জি-৭ নানা মহলে সমালোচনার শিকার হয়েছে। সদস্য দেশগুলোর মিলিত জিডিপি হ্রাস পেয়েছে। একের পর এক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বিশ্ব অর্থনীতির সামনে। প্রশ্ন উঠেছে জি-৭ এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে। চীন, ভারতের মতো একাধিক দেশের অর্থনীতি গত কয়েক বছরে শক্তিশালী হয়েছে। চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি তবে জি-৭ এ জায়গা নেই দেশটির। আগামী অর্থবর্ষের শুরুতেই ভারতের অর্থনীতি ছাপিয়ে যেতে চলেছে জাপানকে। কিন্তু জি-৭ সীমাবদ্ধ সাতটি দেশের মধ্যেই।
জি-৭ এর পরিসর বৃদ্ধি নিয়ে নানা সময়ে নানা আলোচনা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু দেশের মধ্যেই কেন ক্ষমতা কুক্ষিগত, সেই প্রশ্ন উঠেছে। জি-৭ এর সাথে তাল মিলিয়ে তাই ১৯৯৯ সালে গড়ে ওঠে জি-২০। জি-২০ তে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে ১৯টি দেশ। সেগুলো হল ভারত, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইটালি, জাপান, সাউথ কোরিয়া, মেক্সিকো, রাশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র।








