মার্কিন নির্মাতা টোড ফিলিপস পরিচালিত বহু প্রতীক্ষিত ‘জোকার: ফোলি আ ডিউক্স’ ৫ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেয়েছে। তবে ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মূল সিনেমা বক্স অফিসে যেমন ম্যাজিক দেখিয়েছিল, সেই তুলনায় এই সিকুয়েল তেমন কীর্তি গড়তে পারেনি। বরং প্রশংসার চেয়ে সমালোচনাই জুটছে বেশি।
সমালোচকরা গ্রহণ করেননি সিনেমাটি, করেননি ভক্তরাও। এত অপেক্ষার ফল মিষ্টি না হওয়ায় হতাশ ভক্তরা। ছবিটি রটেন টমেটোতে মাত্র ৩৪% ভোট পেয়েছে সমালোচকদের কাছ থেকে। আর দর্শকদের তরফ থেকে মিলেছে ৩৯% ভোট।
সিনেমাটির মূল ছন্দ থেকে সরে গিয়ে অতিরিক্ত মিউজিকের ব্যবহার বিরক্তির সৃষ্টি করেছে দর্শকের মনে। ইন্ডিওয়্যার এটিকে ‘শাস্তির রূপে নির্মিত ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র’ বলে অভিহিত করেছে।
‘জোকার: ফোলি আ ডিউক্স’ সিনেমাটি ‘এন্টারটেইন্ড’ করার বদলে ‘কনফিউজড’ করেছে বেশি। দর্শকের কাছ থেকে যে উন্মাদনা আশা করেছিলেন নির্মাতারা, পাচ্ছেন তার বিপরীত প্রতিক্রিয়া।
সিনেমায় লাভ স্টোরি, প্রিজন ড্রামা, কোর্টরুমের যুদ্ধ সবই আছে। কিন্তু সব থাকার পরেও ‘জোকার’-এর সিকুয়েল থেকে দর্শক যা আশা করেছিলেন, তা পাননি। টোড ফিলিপসের সিনেমা সবসময়েই আলাদা স্বাদ দেয়। এবার সেই স্বাদে মন ভরেনি দর্শকের। তবে ভিন্ন মতও আছে।
সিনেমার সমাপ্তি দর্শকদের বিভ্রান্ত করে কিন্তু আলোচনার দরজা খুলে দেয়। আর্থার ফ্লেক তার কর্মফল ভোগ করে, তবে সিনেমাটি একটি অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়, যা আর্থার ফ্লেক চরিত্রটির থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয় দর্শকের। অতীতের সবকিছুকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সিনেমার সমাপ্তিটা দর্শককে কাঁপিয়ে দেয়।
সিনেমাটির সমাপ্তি দেখে অবাক হয়েছেন অধিকাংশ দর্শক। তবে কিছু দর্শক মনে করেন ‘জোকার: ফোলি আ ডিউক্স’-এর গভীরতা অনেক বেশি, যা বুঝতে সিনেমাটি একাধিকবার দেখতে হবে। যেই ভক্তরা সিনেমাটি পছন্দ করেছেন, তারা মনে করছেন ইচ্ছাকৃত ভাবে সিনেমার সমাপ্তিটা এরকম করা হয়েছে। এতে দর্শক বিভক্ত হবে এবং আরও বেশি আলোচনা হবে সিনেমাটি নিয়ে।
পরিচালক টোড ফিলিপস ঝুঁকি নিয়েছেন আর্থার ফ্লেকের ভিলেন হওয়ার যাত্রার পরিবর্তে তার মন ভাঙ্গার গল্প দেখিয়ে। এক ভক্ত সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘মানুষ সংবেদনশীলতা পছন্দ করে কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে চায় না। এটাই এই সিনেমার শক্তিশালী বার্তা।’ আরেক ভক্ত লিখেছেন, ‘আমি মনে করি যে টোড এবং কাস্ট ঠিক এটাই চেয়েছিলেন। মুভিটির উপর একটি ক্ষোভ, কারণ এটি প্রথম মুভিটি যে ফ্যান্টাসি তৈরি করে তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়। জোকার কোন আলফা পুরুষ নায়ক নয়, তিনি কেবল একজন মানুষ যিনি জীবনে তার পথ খুঁজে পেতে সংগ্রাম করছেন।’
তবে রটেন টমেটোতে সিনেমাটির রিভিউ খারাপ হলেও ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ১১ মিনিট স্ট্যান্ডিং ওভেশন পেয়েছিল ছবিটি। সমালোচকদের প্রশংসাও পেয়েছিল।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস







