চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ডিসেম্বরের পর জানুয়ারিতেও তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার। আগের মাস ডিসেম্বরেও এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার।
সাধারণত রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসী আয় বাড়ে। তবে এবার জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের ইতিহাসে এটি তৃতীয়বারের মতো কোনো মাসে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার ঘটনা। এর আগে গত বছরের রমজান ও ঈদের মাস মার্চে দেশে এসেছিল সর্বোচ্চ ৩৩০ কোটি ডলার। চলতি বছরের জানুয়ারির রেমিট্যান্স গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৪৫ শতাংশের বেশি। গত বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ২১৮ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে প্রবাসীরা মোট এক হাজার ৯৪৪ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল এক হাজার ৫৯৬ কোটি ডলার। এ হিসাবে এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৭৪ কোটি ডলার, যা প্রবৃদ্ধির হার ২১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ভোটের আগে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রভাব পুরো অর্থবছরের রেমিট্যান্সে পড়ছে। পাশাপাশি অর্থ পাচার ও হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে।
রেমিট্যান্স বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী হয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার।
রিজার্ভ বাড়ার ফলে আমদানিতে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হলেও ডলারের বড় কোনো সংকট দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।








