গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, আমরা বলেছি এই সংবিধান মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের যে আকাঙ্খা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা, তার জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, সেই আকাঙ্খা সংবিধানে প্রতিফলিত হয়নি। হয়নাই বলে সমস্ত ক্ষমতা একজন ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রিভূত করা হয়েছে। যিনিই প্রধানমন্ত্রী হন তার হাতে সব ক্ষমতা। আর তিনি পুরো রাষ্ট্রটা পকেটে ঢুকিয়ে জনগণের উপর স্ট্রিম রোলার চালিয়েছেন।
রোববার (২৫ জুলাই) বিকেলে টাঙ্গাইল শহীদ মিনারে গণসংহতি আন্দোলন টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত জুলাই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ২০১১ সালে যখন শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়ে পঞ্চদশ সংশধোনী বরলো তখনি পরিস্কার বোঝা গেছে, তারা আসলে একটি ফ্যাসিবাদি শাসন কায়েম করতে চায়। একটা কর্তৃত্ববাদি স্বৈরাচারি শাসন কায়েম করতে চায়। তাদের যে বাসনা, নিজেদের শাসনকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পরিণত করা। সেই বাসনাকে সাহায্য করেছে কে, আমাদের দেশের সাংবিধানিক স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামো। এই কথা আমরা গণসংহতি কমিটির জন্মলগ্ন থেকে বলে আসছি।
জোনায়েদ সাকি বলেন আরও বলেন, এই শাসকেরা আমাদের ভোটের অধিকারসহ সব অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। আমরা দেখেছি কীভাবে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা গিলে খাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ সরাসরি ২০১১ সাল থেকে এই ফ্যাসিবাদী প্রবণতা ও স্বৈরতন্ত্র কায়েমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। আমরা ২০১১ সাল থেকে বলেছি, বাংলাদেশে একটা গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রতিষ্ঠা না করে এই ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে আমরা মুক্তি পাবো না।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালে তামাশার নির্বাচনের পর থেকে বিরোধী দলের ওপর হামলা, মামলা, গুম, খুন, অত্যাচারের কোনো সীমা ছিল না। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আমরা বলেছি, একটা নতুন জাতীয় সনদ ও একটা নতুন সামাজিক রাজনৈতিক চুক্তি ছাড়া বাংলাদেশ আর অগ্রসর হতে পারবে না। কারণ আমাদের রাষ্ট্রটা যে চুক্তির বলে আছে, সেই চুক্তি দেশের বেশিরভাগ মানুষ ও দলকে রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে ছুঁড়ে ফেলেছে। তাই তখনই আমরা বলেছিলাম, বিদ্যমান ব্যবস্থা আর দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারছে না। ২০১৮ সালের রাতের ভোটের নির্বাচনের পর সব দল বুঝতে সক্ষম হলো, এই ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখে আমরা আর অগ্রসর হতে পারব না। আমরা যখন এই কথাগুলো বলছিলাম, দলগুলোতে এক করার জন্য উদ্যোগ নিলাম, তখন অনেকেই একমত হয়েছেন যে, রাষ্ট্র ব্যবস্থার মেরামত করতে হবে।
এর আগে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও মাজার জিয়ারত করেন জোনায়েদ সাকি।








