এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও অধিদপ্তরে ব্যপোক রদবদল হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এখনো কোন পরিবর্তন হয়নি। যদিও অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের কাছে চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। এই খবর জানার পরেই অধিদপ্তরের অনেকেই নানা ভাবে এই পদটি পেতে তদবির শুরু করেছেন।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভসি রিক্রুটমেন্ট রুলে বলা হয়েছে, মহাপরিচালক অবশ্যই একজন অধ্যাপক এবং অবশ্যই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের (হাসপাতালের পরিচালক) অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সেই বিবেচনায় মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠতার তালিকা অনুসরণ করা যেতে পারে।
দ্বিতীয় গ্রেডের জন্য যে সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যে জ্যেষ্ঠতার তালিকা পাঠানো হয়েছে সেখানে প্রথমেই আছেন ১৩ তম বিসিএস’র দুজন কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. সুনির্মল বসু, তিনি বর্তমানে হবিগঞ্জের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলজেরে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন এছাড়া একই বিসিএস এর অধ্যাপক ডা. দেওয়ান গোলাম মো. আকাইদুজ্জামান, তিনি স্যার সলিমুল্লা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ।
১৫ তম বিসিএস-এ রয়েছে দুজন কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তার এবং নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম।
এছাড়া ১৭তম বিসিএস কর্মকর্তা আছেন ৬ জন। এরা হলেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ফরহাদ হোসেন, রাজশাহী মেডিকেল কলজেরে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. নওশাদ আলী, রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. প্রীতি প্রসুন বড়ুয়া, পটুয়াখালী মেডিকেল কলজেরে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মহিউদ্দিন মাতুব্বর এবং সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শিশির রঞ্জন চক্রবর্তী।
তবে অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৩ বিসিএস এর যে দুজন কর্মকর্তা আছেন তাদের চাকরির মেয়াদ আছে কয়েক মাস। তবে ১৫ বিসিএস এর কর্মকর্তাদের চাকরির মেয়াদকাল আছে এক থেকে দেড় বছর। যোগ্যতার মাপকাঠিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম।
তিনি কর্মজীবনে সফল প্রকল্প পরিচালক, উপাধ্যক্ষ, অধ্যক্ষ এবং মেডিকেল কলেজের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া অধিদপ্তরে পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ, এসটিডি/এইডস ও টিবি ল্যাপ্রোসি, প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালণ করেছেন। এক্ষত্রে অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তারকে এ পদে বসানো যেতে পারে। তিনি তাহলে অধিদপ্তরের দ্বিতীয় নারী মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাবেন।
মহাপরিচালক হতে যারা ইতিমধ্যে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এরা দুজনেই অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ। যেহেতু অধিদপ্তরে অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আছেন তাই জুনিয়র কাউকে দায়িত্ব দিলে প্রতিষ্ঠানের ডিসিপ্লিন বিঘ্নিত হবে।
তবে অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, জ্যেষ্ঠতার বিচারে নয় যোগ্যতার বিচারেই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করতে হবে। যোগ্যরাই পারবে সঠিক নেতৃত্ব দিতে।








