যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর, কে এই আবদুল এল-সাইয়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের সম্ভাব্য জয় দেশটির রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়তে পারে। তিনি নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পেশায় চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এল-সাইয়েদ এর আগে কখনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি। তবে এবারের নির্বাচনে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও আক্রমণাত্মক প্রচারণার মধ্য দিয়ে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদের বাকি দুই বছর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে এবারের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষাপটে মিশিগানের সিনেট নির্বাচন ডেমোক্র্যাটদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিকে এল-সাইয়েদকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হওয়া তার সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেন্স রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। অন্যদিকে ভোট গণনায় এগিয়ে থাকার একপর্যায়ে নিজের বিজয় দাবি করে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এল-সাইয়েদ। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রচারণা ছিল তাদের জীবদ্দশায় দেখা সবচেয়ে কদর্য প্রচারণাগুলোর একটি।
এর আগে ১ নভেম্বর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মিশিগানের প্রায় এক কোটি মানুষ তাদের সরকারের কাছ থেকে আরও ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য। তাই ব্যক্তিগত সমালোচনার পরিবর্তে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টিতে বেশি গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
চিকিৎসক থেকে রাজনীতির ময়দানে
১৯৮৪ সালে মিশিগানের ডেট্রয়েটের উপশহর রচেস্টার হিলসে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল এল-সাইয়েদ। শৈশবে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর তিনি বাবা ও সৎমা জ্যাকুলিন জনসনের কাছে বেড়ে ওঠেন। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনা করেন তিনি। পাশাপাশি মহামারিবিদ্যায় বিশেষজ্ঞতা অর্জন করেন। ২০১৫ সালে ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।
২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাজনীতিতে নিজের অবস্থান জানান দেন এল-সাইয়েদ। তবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। প্রায় ২০ শতাংশের বেশি ভোটের ব্যবধানে তার কাছে পরাজিত হন গ্রেচেন হুইটমার, যিনি পরবর্তী সময়ে দুই মেয়াদে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালের সিনেট নির্বাচনের প্রাথমিক পর্যায়ে হুইটমার হ্যালি স্টিভেন্সকে সমর্থন করলেও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর এল-সাইয়েদের প্রচারণায় প্রকাশ্যে সমর্থন জানান।
প্রগতিশীল রাজনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন
এল-সাইয়েদ মূলত বামঘেঁষা ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। তার অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, ধনকুবেরদের ওপর কর বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ।
তার প্রচারণায় সমর্থন জানিয়েছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের মতো প্রগতিশীল রাজনীতিকেরা। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ মধ্যপন্থি ডেমোক্র্যাট নেতারাও তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। কারণ, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য মিশিগানের আসনটি ডেমোক্র্যাটদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান
এল-সাইয়েদের নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা। তিনি ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তার তীব্র সমালোচনা করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে তিনি গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দেন। পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নীতিকে বর্ণবৈষম্যমূলক বলেও সমালোচনা করেন। তবে এসব অভিযোগ ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
গত ২৯ অক্টোবর এক নির্বাচনী সমাবেশে এল-সাইয়েদ বলেন, মার্কিন নাগরিকদের করের অর্থ অন্য দেশের মানুষ ও তাদের সন্তানদের ওপর বোমা ফেলার পরিবর্তে নিজেদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কল্যাণে ব্যয় হওয়া উচিত। ইসরায়েলের পাশাপাশি মিশর, সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ারও বিরোধিতা করেছেন তিনি। তার বক্তব্





