রাজনীতি

কবে হচ্ছে যুবদলের মহানগর কমিটি? আলোচনায় ত্যাগী ও পরিচ্ছন্নরা

কবে হচ্ছে যুবদলের মহানগর কমিটি? আলোচনায় ত্যাগী ও পরিচ্ছন্নরা
অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে আলোচিত মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডার ঘটনায় ভেঙে দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও যুবদলের কমিটি।

পূর্বের কমিটি বিলুপ্তির পর নতুন নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা সমীকরণ ও আলোচনা। শীঘ্রই বা যে কোন মুহূর্তে নতুন কমিটি ঘোষণা আসতে পারে। এমন সম্ভাব্যতায় জোর তৎপড়তা চালাচ্ছে পদপ্রত্যাশীরা। দলীয় কার্যালয়ের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজনদের দরবারে আনাগোনা বাড়িয়েছে পদপ্রত্যাশীরা।

মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যেকোনো সময় নতুন পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক কমিটি ঘোষণা করতে পারে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। নতুন কমিটিতে পদ পেতে জোর লবিং ও তৎপরতা চালাচ্ছেন দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা। বিগত সময় ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভুমিকা পালনকারী, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার নেতারা এখন মুল্যায়নের ব্যাপারে আশাবাদী।

তবে নতুন কমিটি কবে হবে এমন প্রশ্নে যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না চ্যানেল আইকে জানান, কমিটি শীঘ্রই হয়ে যাবে। তবে এবার কমিটি দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি। যারাই নেতৃত্বে আসবে ক্লিন ইমেজ, বিগত আন্দোলন সংগ্রামে ভুমিকা এবং বর্তমান তৎপড়তা চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

মোনায়েম মুন্না বলেন, আমরা শুরু থেকেই অধিক সতর্ক ছিলাম। তৃণমুল পর্যায়ে নেতাকর্মীরা যাতে কোন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হয় বা দল ও সরকারের দুর্নাম হয়, এমন কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখতে শুরু থেকেই আমরা কঠোরতা অবলম্বন করেছি।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট সেজন্য আমরা বুঝেশুনে কমিটি দিবো।

কোন পদ্ধতিতে কমিটি হবে? বা নেতৃত্ব বাছাই কীভাবে হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে মোনায়েম মুন্না বলেন, স্বাভাবিক নিয়মে যেই পদ্ধতিতে কমিটি হয়, সেভাবেই হবে। তবে আমরা অবশ্যই দলের হাইকমান্ড বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করেই কমিটি দিবো। আমরা সব ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেই অনুসরণ করছি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রাজ, আইয়ুব আলী, তসলিম আহসান মাছুম প্রমুখ। আর সধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক তানভীর আহম্মেদ খান ইকরাম ও আমিনুল ইসলাম আমিন। তারা দুজনই ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

তানভীর আহমেদ ইকরাম বিগত দুই কমিটিতে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মহানগর উত্তর ছাত্রদলের দপ্তরের দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকার কারণে মহানগরের ২৬টি থানা ও ৭১টি ওয়ার্ডেই তার অনুসারী ও পরিচিতি রয়েছে।

অন্যদিকে আমিনুল ইসলাম আমিন রাজপথ থেকে বেড়ে ওঠা তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল নেতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ চলায় আমিন ঢাকা পলিটেকনিক ছাত্রদলের নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এরপর যুবদলের রাজনীতিতেও রয়েছে অনবদ্য ভুমিকা। আন্দোলনমুখী নেতৃত্ব আমিনের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামেও ছিলো সক্রিয় অংশগ্রহন। হয়েছেন একাধিক মামলার আসামী। ঢাকা মহানগর যুবদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটি ও তার আগের কমিটির সদস্য ছিলেন আমিনুল ইসলাম আমিন। তৃণমুল কর্মীদের সঙ্গে তার রয়েছে নিবির যোগাযোগ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও সংগঠনকে টিকিয়ে রেখেছেন এবং যাদের ক্লিন ইমেজ রয়েছে; তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং সংগঠন পরিচালনায় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার বিষয়টিকেও বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

তবে কমিটি ঘোষণার সুনির্দিষ্ট কোন রোডম্যাপ বা দিনক্ষণ জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। দায়িত্বশীল নেতাদের ভাষ্য, নেতৃত্বে বাছাইয়ে কিছুটা সময় নিয়ে হলেও নতুন কমিটিতে স্বচ্ছ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের রাখার চিন্তা রয়েছে। কারণ নেতার্মীদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তিও জড়িত।

বিষয়:মহানগর যুবদল কমিটি মোনায়েম মুন্না যুবদল

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…