এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ভারতের দক্ষিণী চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা রজনীকান্ত ৫০ বছরের ক্যারিয়ার উদযাপন করছেন এ বছর। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) মুক্তি পেয়েছে তাঁর ১৭১তম ছবি কুলি, যা নিয়ে সারা ভারতে উন্মাদনা তুঙ্গে।
কিন্তু সুপারস্টার হয়েও রজনীকান্তের বিনয় ও সরলতার গল্প ভক্তদের কাছে আরও বেশি অনুপ্রেরণাদায়ক হয়ে উঠেছে।
১৯৮৯ সালের চালবাজ ছবির পরিচালক পঙ্কজ পরাশর স্মৃতিচারণা করেছেন রজনীকান্তের সঙ্গে কাটানো কিছু মুহূর্তের। তাঁর ভাষায়, “রজনীকান্ত বুঝেছিলেন ছবিটি মূলত শ্রীদেবীর। তিনি অহংকারী সুপারস্টার চরিত্র না করে কমেডি ও আন্ডারডগ চরিত্রে অভিনয় করলেন, যা খুব কম তারকাই সাহস করে করেন। ভূতের ভয় পাওয়া চরিত্রটি তাঁকে দর্শকের আরও কাছাকাছি এনেছিল।”
শুটিং সেটে রজনীকান্তের সরলতা সবাইকে অবাক করত। তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে আসতেন, কোনো সহকারী বা ম্যানেজার ছাড়াই। একদিন পরিচালককে হোটেলে পৌঁছে দেওয়ার পথে জানালা খোলা রাখায় তিনি সতর্ক করেছিলেন, কারণ ভক্তরা চিনে ফেললে ‘গাল্লাটা’ হবে। পরক্ষণেই সেটি সত্যি হয়ে যায়—ট্রাফিক জ্যাম, ভক্তদের ভিড় এবং আশীর্বাদ নিতে শিশুদের গাড়ির বোনেটে বসিয়ে দেওয়া—সবই ছিল তাঁর তারকাখ্যাতির প্রমাণ।
তবুও এই খ্যাতি মাথায় তুলতে চান না রজনীকান্ত। পরাশরের কাছে তিনি একবার বলেছিলেন, “মানুষ আমাকে পূজা করে, এটা অহংকারে পরিণত হতে পারে। তাই আমি মাঝে মাঝে পাহাড়ে যাই, মন্দিরে ১০-১২ দিন থাকি, মেঝে পরিষ্কার করি, মাটিতে ঘুমাই—শুধু নিজেকে বিনয়ী রাখার জন্য।”
শুধু তাই নয়, নিজের অর্থ দিয়ে তিনি বিনামূল্যে বিয়ের আয়োজনের জন্য অডিটোরিয়াম নির্মাণ করেছেন, যা স্থানীয় মানুষের উপকারে আসে।
কুলি মুক্তির এই সময়ে রজনীকান্তের এমন গল্পগুলো আবারও প্রমাণ করে, তিনি শুধু এক জন সুপারস্টার নন—তিনি এক অনন্য ঘটনা, যিনি পাঁচ দশকের গৌরবময় ক্যারিয়ারেও মাটির কাছাকাছি থেকে ভক্তদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। –এনডিটিভি







