বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে স্থানীয় বাজারে সমন্বয়ের তাগিদ দিচ্ছে ভোজ্যতেল উৎপাদক সমিতি। তবে সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকেও তারা প্রস্তাবিত দাম আদায় করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে।
উৎপাদকদের দাবি, লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়ানো দরকার। কিন্তু সরকার রাজি মাত্র ১ টাকায়। এই দড়ি টানাটানির মধ্যেই রাজধানীর পাইকারি বাজারে দেখা দিয়েছে সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট। খুচরা বাজারে এখনও প্রভাব পুরোপুরি পড়েনি, তবে দাম ধীরে ধীরে চড়তে শুরু করেছে। সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে।
সরকারি বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা টিসিবির তথ্যমতে, শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে লিটারপ্রতি ১৭০–১৭৬ টাকায়, আর পামওয়েল সুপার ১৫৫–১৬৬ টাকায়। খুচরা পর্যায়ে দাম আরও বেশি। পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় খোলা সয়াবিন ও সুপার পামওয়েলের দাম গত তিন–চার দিনে লিটারপ্রতি ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
এদিকে বিশ্ববাজারেও সয়াবিন তেলের দামের ওঠানামা চলছে। মে মাসে প্রতি টনের দাম ছিল ১ হাজার ১৮০ ডলার, জুলাইয়ে তা বেড়ে যায়, আগস্টে আবার কমে। বর্তমানে দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৫০ ডলার টনে। দেশে বছরে প্রায় ২৪ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে, যার মাত্র ১০–২০ শতাংশ আসে স্থানীয় উৎপাদন থেকে।
নিত্যপণ্যের বাজারে একই সময়ে ভিন্ন চিত্র। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ব্রয়লার মুরগি, চাল ও মৌসুমি সবজির দাম কিছুটা কমেছে। আলুর দাম কমে প্রতি কেজি ২০–২৫ টাকায় নেমে এসেছে। তবে ইলিশের দাম এখনও আকাশছোঁয়া-প্রতি কেজি ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি দেশের ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রবণতাই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার বড় কারণ।








