নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক এখনও মার্কিন রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে আছে। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে তারা কী আলোচনা করেছেন সেবিষয়ে তথ্যপ্রকাশ করছে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যম।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ট্রাম্প-মামদানি বৈঠকে ইমিগ্রেশন ইস্যু ছিল অন্যতম আলোচিত বিষয়। মামদানি জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ ও ফেডারেল সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা সম্ভব হলেও তা অবশ্যই শহরের প্রচলিত নীতির সীমার মধ্যে থাকতে হবে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, অনেক অভিবাসী অতি সাধারণ অভিযোগ বা আদালতে উপস্থিত হতে না পারার কারণে অপ্রয়োজনীয় শাস্তি বা ডিটেনশনের মুখে পড়েন, যা সমাধানে তিনি ফেডারেল প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
নিউইয়র্কের নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, শহর নিরাপদ না হলে ভাড়া, ইউটিলিটি বা বাসস্থানের খরচ সাশ্রয়ী হলেও এর সুফল মিলবে না। মামদানিও সমর্থন জানিয়ে বলেন, জননিরাপত্তা যেকোনো শহর পরিচালনার মূল ভিত্তি এবং এটি নিয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করা জরুরি।
ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মামদানি ও ট্রাম্প রিপাবলিকান রাজনীতির কেন্দ্রীয় চরিত্র, দুই নেতার মধ্যে রাজনৈতিক মতাদর্শে বড় পার্থক্য থাকলেও বৈঠকটি ছিল আশাব্যঞ্জক ও ফলপ্রসূ। তাদের মধ্যে আগেও অনেকবার উত্তেজনা তৈরি হলেও এদিনের আলোচনায় বেশকিছু বিষয়ে তারা ছিলেন পুরোপুরি একমত।
বৈঠক শেষে দুই নেতা কেবিনেট রুমে একসঙ্গে ছবি তুলেছেন, ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের প্রতিকৃতি এবং একটি স্কুল-পেইন্টিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে সেই ছবি দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ট্রাম্প জানান, তিনি নবনির্বাচিত মেয়রের সাফল্য কামনা করেন এবং নিউইয়র্কের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
অতীতে ট্রাম্পকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলা মামদানিও বৈঠক নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা আদর্শগত মতপার্থক্য থাকলেও তার লক্ষ্য অপরিবর্তিত—নিউইয়র্কবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন। ট্রাম্পকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলার মন্তব্য তিনি এখনো পরিবর্তন করেননি; তবে ব্যক্তিগত মতামত পেছনে রেখে শহরের স্বার্থে তিনি আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।








