ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম সেরা কোচদের সংক্ষিপ্ত তালিকার একজন পেপ গার্দিওলা। দীর্ঘ ১০ বছর সামলেছেন ম্যানচেস্টার সিটিকে। গত রাতে সিটিজেন অধ্যায় শেষ করে ফেলেছেন স্প্যানিয়ার্ড কোচ। রেখে গেছে অসংখ্য গৌরব। যাওয়ার আগে আবেগঘন কণ্ঠে ক্লাবকে মান ধরে রাখার দায়িত্ব দিয়ে বিদায় জানিয়েছেন নিজের ঘরকে।
রোববার রাতে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে গার্দিওলার বিদায়ী ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলার কাছে ২-১ গোলে হেরেছে ম্যানসিটি। ম্যাচের পর আবেগঘন বিদায় পান গার্দিওলা। মৌসুমের শেষ ১০ বছরের অধ্যায়ের ইতি টানতে গিয়ে ৫৫ বর্ষী পেপকে কাঁদতে দেখা যায়। গার্দিওলার ৯৫ বর্ষী বাবা ভ্যালেন্তি দর্শকদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন। খেলা শেষে মাঠে সমর্থকদের উদ্দেশে কথা বলেছেন সদ্যবিদায়ী সিটি কোচ।
শুরুতে রসিকতার সুরে দলকে সতর্ক করে বলেন, নতুন নামকরণ করা পেপ গার্দিওলা স্ট্যান্ড থেকে খেলা দেখবেন। বলেছেন, ‘খেলোয়াড়রা জানে না, কিন্তু আমি ওখানে থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ করব।’
পরে আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন পেপ। বলেন, ‘দলের মান বজায় রাখার বিশাল দায়িত্ব খেলোয়াড়দের উপর রয়েছে। আশা করি, তারা লড়াই করে যাবে। এটাই আমার ঘর। এটি আমার পরিবারের জন্য এক বিরাট সম্মান, যা তারা সারাজীবন মনে রাখবে।’
এসময় গ্যালারি থেকে সমর্থকরা স্লোগান দিতে থাকেন। বলেন, আরও ১০ বছর থেকে যাও পেপ। উত্তরে পেপ বলেন, ‘আগামী বছরগুলোতে, বিশ্বের যেখানেই হোক, রাস্তায় বা এখানে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে, যদি আমাকে দেখেন, আপনি যদি সিটি সমর্থক হন, আমার কাছে চলে আসবেন। এই ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য এক বিরাট সম্মানের বিষয় ছিল। আমার নেয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তই এই ক্লাবের জন্য সেরা বলে মনে হয়েছে। আমি সকলকে অনেক ভালোবাসি। সময়টা খুব মজার ছিল।’
গার্দিওলা কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন বার্সেলোনা থেকে। সেখানে সফল সময় কাটিতে দায়িত্ব নেন বায়ার্ন মিউনিখের। পরে যোগ দেন সিটিতে। যেখানে গেছেন সেখানেই সফল হয়েছেন। সিটির ইতিহাসে প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা আসে গার্দিওলার হাত ধরে।
এছাড়া টানা চারবারসহ ৬টি প্রিমিয়ার লিগ, ৩টি করে এফএ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড, ১টি করে উয়েফা সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর দ্বিতীয় ইংলিশ ক্লাব হিসেবে ট্রেবল জিতিয়েছেন ম্যানসিটিকে, গার্দিওলার হাত ধরে ২০২২/২৩ মৌসুমে এ অর্জন পায় সিটিজেনরা। কেবল ইংলিশ নয়, ইউরোপজুড়ে সিটিকে এক পরাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলে গেলেন গার্দিওলা।








