বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগের বিষয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের ভূমিকা মৌলিকভাবে আলাদা।
বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি তার ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেইজে তিনি এ কথা জানান।
পোস্টে তিনি জানান, সচিব সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করেন। সরকার বদলালে তাই সিনিয়র সচিব বদলানো অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু গভর্নরের কাজ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা, এবং প্রয়োজনে সরকারকেও “না” বলা। যখন সরকার অতিরিক্ত ব্যয়ের পথে যায়, যখন রাজনৈতিক চাপে মুদ্রা ছাপানোর তাগিদ আসে, তখন গভর্নরকে দাঁড়াতে হতে পারে সরকারের বিপরীতে। আর এই কারণেই বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতাকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তাসনিম জারা লেখেন, গভর্নরের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে যাতে তিনি রাজনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার চার বছরের মেয়াদে থাকেন। ভিন্নমতের প্রেসিডেন্টও সেই মেয়াদে হাত দেন না। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গভর্নর বদলানো তাই সচিবালয়ে রদবদলের চেয়ে ভিন্ন মাত্রার সিদ্ধান্ত।
সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে সরিয়ে একজন সক্রিয় ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দিচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, আমার মনে হয় এই সিদ্ধান্তটার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হবে। সামনের দিনগুলোতে যে যে বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন:
১. গভর্নর কি সরকারের সঙ্গে একমত না হলে সেটা বলতে পারছেন? নাকি প্রতিটি সিদ্ধান্ত সরকারের সুরে সুর মিলিয়ে আসছে?
২. নতুন গভর্নর কি তার সব ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা সত্যিকার অর্থেই ত্যাগ করেছেন? নাকি নিয়োগপত্রের শর্ত শুধু কাগজে থাকবে?
৩. ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের সমস্যা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ক্ষত। নতুন গভর্নর কি এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হচ্ছেন?
৪. সুদের হার, মুদ্রা সরবরাহ, এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কি আগের নীতি অব্যাহত থাকছে, নাকি হঠাৎ পরিবর্তন আসছে? যদি পরিবর্তন আসে, তাহলে সেটা কাকে সুবিধা দিচ্ছে?
৫. টাকার মান কি বাজারভিত্তিক থাকছে, নাকি অতীতের সরকারের মতো কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে?








