১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জনকল্যাণমূলক সংস্থা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর এক বিবৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিটি হুবহু নিচে তুলে ধরা হল:
”আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি জনকল্যাণমূলক সংস্থা। যুগ যুগ ধরে সমাজের দুঃস্থ এবং দরিদ্র মানুষের পাশে থেকে মানবসেবায় নিয়োজিত। ঢাকার নাগরিকদের জন্য ফ্রি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও বেওয়ারিশ লাশ দাফন ছাড়াও বর্তমানে আঞ্জুমানের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ঢাকা মহানগর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের নয়টি এতিমখানায় চার শতাধিক এতিম বাচ্চাদের প্রতিপালন, চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে প্রায় ১৭০০ গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের অবৈতনিকভাবে শিক্ষার সুযোগ তৈরি, একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পরিচালনা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ দুঃস্থ ও বয়স্ক পুরুষ-মহিলাদের নিয়মিত ভাতা প্রদান, বিশ্ব এজতেমায় ফ্রি মেডিকেল সার্ভিস প্রদান ইত্যাদি। ঢাকা ছাড়াও দেশের ৩২টি জেলা শাখায় আঞ্জুমানের সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম সম্প্রতি কিছু অসৎ ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত কর্মকাণ্ডের সম্মুখীন হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করে হচ্ছে। গত মাসে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কর্মচারীরা বেতন কাঠামোর সংশোধনের দাবীসহ অন্যান্য কিছু দাবি উত্থাপন করেন। এ বিষয়ে প্রথমে আঞ্জুমানের নির্বাহী কমিটির কাছে বিষয়টি উত্থাপিত হয়। অতঃপর আঞ্জুমান পরিচালনা কর্তৃপক্ষ কর্মচারীদের দাবি মেনে নেয় এবং কর্মচারীরা খুশি হয়।

তবে, অপ্রত্যাশিতভাবে সম্প্রতি ৪ জন কর্মচারীর পোস্টিং অর্ডারকে কেন্দ্র করে আবারও আন্দোলন শুরু করে। উল্লেখ্য, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম এর বাংলাদেশের ৩২টিরও বেশি জেলায় আঞ্চলিক অফিস রয়েছে এবং এই পোস্টিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা অফিসগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী করা হয়। সম্প্রতি চারজন কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। যেখানে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের চলমান কিছু প্রকল্প রয়েছে। এই প্রয়োজনীয় পোস্টিং সত্ত্বেও, চারজন কর্মচারীর পোস্টিংকে কেন্দ্র করে অন্যান্য কর্মচারীদের প্রভাবিত করে অনৈতিকভাবে কিছু কর্মচারী আন্দোলন করছে।
এছাড়াও বেআইনি ও অনৈতিকভাবে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের ট্রাষ্টি ও সহ-সভাপতি আজিম বক্স এর পদত্যাগ দাবি করে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন করছে। যার কোন কারণ নেই। তাদের এই বেআইনি ও অযৌক্তিক দাবি আঞ্জুমানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার একটি অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু না। তাদের এই বেআইনি ও অযৌক্তিক দাবির পেছনে কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে কাজ করছে।
তাছাড়া কিছু কর্মচারীরা এখন অফিস বন্ধের মতো অনাকাঙ্খিত পন্থা অবলম্বন করছে এবং আঞ্জুমানের প্রধান অফিসে প্রবেশ করতে কর্মচারীদের বাঁধা দিচ্ছে। তারা মূল অফিস ভবনে কর্মচারীদের ঢুকতে দিচ্ছে না এবং বিভিন্ন স্থানে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের সুনাম নষ্ট করার অসৎ উদ্দেশ্য একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু না।
আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম দৃঢ়ভাবে এই ধরণের অসৎ প্রচেষ্টার নিন্দা জানাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড শুধু প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য্য ধারণ করার আহ্বান জানাচ্ছি এবং বেআইনি আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করার প্রচেষ্টা বন্ধের আহ্বান করছি।”








