পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আজ ১৪ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল শিশু উদ্যান প্রাঙ্গণে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
বৈশাখী উৎসব ও শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি থাকবেন সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এমপি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার আয়োজনে এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহযোগিতায় এই বর্ণাঢ্য উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উৎসবে দেশ সেরা শিল্পীদের অংশগ্রহণে থাকবে বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। থাকছে শিল্পী রোক্সার রহমান ও মৌসুমি চৌধুরীর একক গান, লালন কন্যা ডলি মন্ডল ও তার দলের সংগীত, সিলেটের বাউল শিল্পী বিরহী কালা মিয়া ও তার দলের পরিবেশনা। একক সঙ্গীতে আরো থাকছেন তারেক ইকবাল চৌধুরী, সুমিত পাল, নিশা ব্যানার্জী ও শুভ দাশ। সিলেটের ‘ত্রিমাত্রা’ ব্যান্ডসহ শ্রীমঙ্গল ব্যান্ড এসোসিয়েশনের বিভিন্ন ব্যান্ডের পরিবেশনা অনুষ্ঠানমালার বিশেষ আকর্ষণ।
উপজেলা জাসাস আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান লিংকন জানান, বৈশাখের আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই বৃহৎ সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
সাতদিনের উৎসবে শ্রীমঙ্গলের সম্মিলিত বাউল পরিষদ, সৎসঙ্গ স্বরলিপি সংগীত বিদ্যালয়, কালিঘাট চা বাগান সংগীত একাডেমি, চতুরঙ্গ শিল্পকলা নিকেতন, নাট্যবেদ, আদর্শ সংগীত বিদ্যালয়, বারিধারা শিল্পীগোষ্ঠী, স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনা, শিহরণ, আদর্শ সংগীত বিদ্যালয় (সবুজবাগ শাখা), সপ্তক সংগীত পরিবার, শ্রীমঙ্গল নৃত্যালয়, আর. এ ডান্স ক্লাব, টিউনস মিউজিক্যাল একাডেমি, সুরাঙ্গন সংগীত বিদ্যালয়, বর্ণমালা সংগীত বিদ্যালয়, সুরধারা সংগীত বিদ্যালয়, নৃত্যাঙ্গন, শ্রীমঙ্গল সাংস্কৃতিক একাডেমি, শৈলজা সংগীতালয়, শ্রীমঙ্গল আবৃতি উৎসব, অনুরাগ মণিপুরি নৃত্যালয়, ফাগুন সংগীত বিদ্যালয়সহ অনেক সংগঠন।
এছাড়া আয়োজনের অংশ হিসেবে কলেজ থিয়েটার, বাংলাদেশ চা জনগোষ্ঠী আদিবাসী ফ্রন্ট, কঁচি-কাঁচার মেলা, শ্রীমঙ্গল জনতা থিয়েটারের পরিবেশনে নাটক ‘বৈশাখী হাওয়া’ এবং সুরমা অপেরার যাত্রাপালা ‘বাগদত্তা’ মঞ্চস্থ হবে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, শ্রীমঙ্গলের কলেজ রোডস্থ শিশু উদ্যানে ১৪, ১৫ ও ১৬ এপ্রিল, তিনদিনব্যাপী শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারবে। বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে বৈশাখী উৎসবের অংশ হিসেবে এ প্রতিযোগিতাগুলোর আয়োজন করা হয়েছে।
উৎসবের শেষ দিন ২০ এপ্রিল আলোচনা সভা, অসচ্ছল ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান, গুণীজন সম্মাননা ও স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হবে। পরে আকর্ষণীয় সংগীতানুষ্ঠান এবং লাকি কুপন ড্র’র মাধ্যমে সাতদিনব্যাপী বৈশাখী উৎসব শেষ হবে।







