বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। বলবৎ রয়েছে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত। সংকটের মাঝেও সৈকতে পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল।
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় কক্সবাজারে ব্যপক প্রস্তুতি নিয়েছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন। কক্সবাজার জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরানের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের শহীদ জাফর আলম সিএসপি সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৮ হাজার ৬ শ স্বেচ্ছাসেবক। সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে বাতাসের গতিবেগও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাগরে মাছ ধরার ট্রলার সমুহকে উপকূলে নিরাপদে চলে আসতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান দুর্যোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রস্তুতির তথ্য শোনার পর বলেন, সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি হোটেল মোটেল জোনও যেন প্রয়োজন মোতাবেক দুর্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়ায় সেই অনুরোধ করেন। রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে, ফায়ার সার্ভিসকে জরুরি রেসকিউর জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ধস এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা থেকে মানুষজনকে সরিয়ে আনার জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও খাবার এবং খিচুড়ির ব্যবস্থা করতে পৌরসভাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম জানান ঘুর্ণিঝড় হামুন, মোখাসহ অনেক দুর্যোগ একসঙ্গে মোকাবেলা করা হয়েছে। এবারও আশা করা যায় সবাই একসাথে কাজ করবো। প্রান্তিক মানুষদের সচেতনতা ও আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে এসে নিরাপদে রাখার জন্য সকলকে নির্দেশনা দিয়েছি। এছাড়াও রাতে রিচার্জেবল লাইট ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখতে বলেন।
সভায় উপস্থিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য ও প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার মুহাম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার পাশাপাশি দুর্যোগকালীন আবাসিক হোটেল-মোটেলগুলো যেন সাধারণ মানুষকে আশ্রয়দানে প্রয়োজন মোতাবেক সহযোগিতা দেন। সড়ক ও জনপদ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিসকে জরুরি উদ্ধার তৎপরতার জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অতিবৃষ্টিতে পাহাড় ধ্বসে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা থেকে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে রাখতে পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদেরও নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া দুর্যোগকালীন দুর্গত মানুষদের মাঝে শুকনো খাবার ও খিঁচুড়ির ব্যবস্থা নিতেও সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ইতিমধ্যে জেলা সিপিপি কার্যালয় এবং জেলা ত্রাণ, দুর্যোগ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রস্তুতির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। জেলার উপকূলীয় ৭ টি উপজেলায় সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক কর্মিরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় জেলার ৬৩৮ টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ৮ হাজার ৬০০ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ২ হাজার ২০০ জন সিপিপি কর্মিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে জরুরি কাজে অংশগ্রহণের জন্য।
দুর্যোগকালীন মানুষকে সহায়তার প্রস্তুতি সম্পর্কে মুহাম্মদ শাহীন ইমরান জানান, জেলা প্রশাসনের কাছে জরুরি সহায়তা প্রদানের জন্য ৪৮৬ মেট্টিক টন চাল, ২ লাখ ৭৫ হাজার নগদ টাকা, ২৩ বান্ডিল ঢেউটিন, টিনের সাথে গৃহনির্মাণের মজুরীর জন্য ৬৯ হাজার নগদ টাকা মজুদ রয়েছে। তবে কোন ধরণের শুকনো খাবারের মজুদ নেই।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় ৬৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া ৮ হাজার ৬ শ’ স্বেচ্ছাসেবক এবং ২২ শ সিপিপি প্রস্তুত রাখা হয়েছে জরুরি কাজে অংশগ্রহণের জন্য।
দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে জানিয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে চাল ৪৮৬ মে.টন চাল, ২ লাখ ৭৫ হাজার নগদ টাকা, ঢেউটিন ২৩ বান্ডিল,টিনের সাথে গৃহ নির্মাণ মঞ্জুরির অর্থ ৬৯ হাজার মজুত রয়েছে। প্রয়োজনে শুকনা খাবার মজুত করা হবে।







