অজিদের দেয়া বড় সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে লড়াইটা জমিয়ে তুলেছিল পাকিস্তান। প্রায় জয়ের পথেই হেটেছিল তারা। তবে সে পথ আটকান অ্যাডাম জাম্পা। চার উইকেট শিকার করে ধস নামিয়েছেন পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে। ৬২ রানে পাকিস্তানকে হারিয়ে আসরে দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেল অস্ট্রেলিয়া।
শুক্রবার বেঙ্গালুরুতে টসে জিতে অস্ট্রেলিয়াকে আগে ব্যাটে পাঠায় পাকিস্তান। ব্যাটে নেমে উড়ন্ত শুরুর পর বাধা হানেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। ফেরান পাঁচ ব্যাটারকে। নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৬৭ রানের সংগ্রহ পায় অস্ট্রেলিয়া। জবাবে নেমে ৪৫.৩ ওভারে ৩০৫ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
অজিদের বড় সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে ১৩৪ রান তোলেন আবদুল্লাহ শফিক ও ইমাম উল হক। ২১.১ ওভারে শফিককে ফেরান স্টয়নিস। সাত চার ও দুই ছক্কায় ৬১ বলে ৬৪ রান করেন পাকিস্তান ওপেনার। আরেক ওপেনার ইমাম ফেরেন দলীয় ১৫৪ রানে। দশ চারে ৭১ বলে ২০ রান করে স্টয়নিসের দ্বিতীয় শিকার হন তারা।
তিনে নেমে শুরুটা দারুণ পেলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি বাবর আজম। ১৪ বলে ১৮ রান করে ফিরে গেছেন জাম্পার শিকার হন পাকিস্তান অধিনায়ক। ৩৪.২ ওভারে ২৩২ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ৩১ বলে ৩০ রান করা সৌদ শাকিলকে ফেরান প্যাট কামিন্স।
এরপর রিজওয়ান ও ইফতিখার জুটিতে লড়াই জমিয়ে তোলে তারা। ৩৯.৫ ওভারে দলীয় ২৬৯ রানে ইফতিখারের উইকেট তুলে নেন জাম্পা। ২০ বলে ২৬ রান করেন ইফতিখার। ৪১তম ওভারে রিজওয়ানকেও ফেরান অজি লেগস্পিনার। আর তাতেই ম্যাচ থেকে বেরিয়ে যায় পাকিস্তান।
রিজওয়ান ও ইফতিখারের পর আর দাঁড়াতে পারেননি কেউ। ৪৫.৩ ওভারেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।
অজিদের হয়ে চারটি উইকেট নিয়েছেন অ্যাডাম জাম্পা। প্যাট কামিন্স ও মার্কাস স্টয়নিস নেন দুটি করে উইকেট।
এরআগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটে নেমে উড়ন্ত শুরু পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। দুই ওপেনার মিচেল মার্শ ও ডেভিড ওয়ার্নার ঝড় তুলেছেন পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে। জোড়া সেঞ্চুরিতে গড়েছেন রেকর্ড। অজিদের হয়ে বিশ্বকাপে উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন দুজনে। এক রানের জন্য সব উইকেট মিলিয়ে বিশ্বমঞ্চে অজিদের সর্বোচ্চ রানের জুটিটা স্পর্শ করতে পারেননি। বিচ্ছিন্ন হয়েছেন ২৫৯ রানে।
বিশ্বকাপে উদ্বোধনী জুটিতে অজিদের রেকর্ডের মালিক ছিলেন শেন ওয়াটসন ও ব্র্যাড হাডিন। ২০১১ বিশ্বকাপে বেঙ্গালুরুতে কানাডার বিপক্ষে ১৮৩ রান তুলেছিলেন দুজনে। একযুগ পর একই মাঠে সেটি টপকে গেলেন মার্শ ও ওয়ার্নার। বিশ্বকাপে অজিদের যেকোনো উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি ২৬০। ২০১৫ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে গড়েছিলেন ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ। ওয়ার্নার-মার্শ জুটিতে থেমেছেন তার এক রানে আগে।
১০ চার ও ৯ ছক্কায় ১০৮ বলে ১২১ রান করে শাহিন শাহ আফ্রিদির শিকার হয়েছেন মিচেল মার্শ। জুটি ভাঙার পরের বলেই রানের খাতা খোলার আগে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে দ্বিতীয় শিকার বানিয়েছেন পাকিস্তান পেসার।
স্টিভেন স্মিথও ফিরে যান দ্রুত। এরপর ৩২৫ রানে ডেভিড ওয়ার্নারের উইকেট পতনের পর দ্রুতই আরও ৫ ব্যাটারকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। ১৪টি চার ও ৯টি ছক্কায় ১২৪ বলে ১৬৩ রান করে হারিস রউফের শিকার হন ওয়ার্নার।
মার্শ ও ওয়ার্নার ছাড়া অজিদের আর কোনো ব্যাটারই উল্লেখযোগ্য রান করতে পারেননি। দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছান মাত্র দুজন। স্টোয়নিস ২৪ বলে ২১ রান ও জশ ইংলিশ ৯ বলে ১৩ রান করেন।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট নিয়েছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। হারিস রউফ নেন তিনটি। এছাড়া উসামা মীর নেন একটি উইকেট।








