সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজার পুণ্যলগ্ন শুভ মহালয়া শেষ হয়েছে রোববার। এর মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষ সূচনা হলো। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত উদযাপিত হবে এই পূজা। গত বছরের তুলনায় এ বছর এক হাজারের বেশি পূজামণ্ডপ বেড়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় শতাধিক মণ্ডপে হবে দুর্গোৎসব। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বর্ণিল আলোকসজ্জায় সেজে উঠবে নগরী। প্রতিটি মণ্ডপই থাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয়ে ঢাকা।
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির
দেশের অন্যতম প্রাচীন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির। পলাশীর মোড়ের পাশে ঢাকেশ্বরী সড়কেই মন্দিরটির অবস্থান। দুর্গাপূজায় সবচেয়ে বেশি ভক্তের সমাগম হয় এই মন্দিরে। মহালয়া থেকে পূজার প্রতিটি দিন শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে ভক্তি আর নিষ্ঠার সঙ্গে উদযাপন করা হয়। মণ্ডপের ভেতরে ও বাইরে চমৎকারভাবে সাজানো হয়। দেশ-বিদেশ থেকেও ভক্ত দর্শনার্থীরা আসেন ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মায়ের পূজা দেখতে। বিজয়া দশমীতে বরণ, সিঁদুর খেলা ও সন্ধ্যা আরতি দেখার জন্যও এখানে প্রচুর মানুষের ভিড় হয়।
রমনা কালীমন্দির
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই রমনা কালীমন্দির। জনশ্রুতি আছে, প্রায় ৫০০ বছর আগে বদরীনাথের যশীমঠ থেকে গোপালগিরি নামে এক সন্ন্যাসী ঢাকায় এসে সাধন-ভজনের জন্য আখড়া গড়ে তোলেন। এর ২০০ বছর পর সেখানে মূল রমনা কালীমন্দির নির্মাণ করেন সাধু হরিচরণ গিরি। রমনা কালীমন্দির এখনও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। মন্দির চত্বরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। মন্দির এলাকায় ছোটখাটো হরেক জিনিসের মেলাও বসে।
রামকৃষ্ণ মিশন
কুমারী পূজা দেখতে চাইলে আপনাকে যেতে হবে রামকৃষ্ণ মিশনে। ঢাকায় শুধু রামকৃষ্ণ মিশনেই মহাঅষ্টমী তিথিতে কুমারী বালিকাকে মাতৃরূপে দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। কুমারী পূজা দেখার জন্য বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে ভক্তরা ভিড় করেন। টিকাটুলির রামকৃষ্ণ মিশন রোডে এর অবস্থান।
বনানীর পূজামণ্ডপ
বনানী খেলার মাঠে প্রতিবছর অস্থায়ী পূজামণ্ডপ তৈরি করা হয়। ব্যয়বহুল ও জাঁকজমকপূর্ণ এই মণ্ডপ দেখতে ভিড় করে বহু মানুষ। অপরূপ সুন্দর প্রতিমা ও বর্ণিল আলোকসজ্জা নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের। দিনের চেয়ে রাতের বনানীর পূজামণ্ডপ অনেক বেশি প্রাণবন্ত। দশমীতে গুলশান-বনানী এলাকায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হয়, যা শেষ হয় আশুলিয়ার বিসর্জনে।








