ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬৪ জন নিহত এবং ৯৭১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার পরপর দুটি ভূমিকম্প দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে ছিল এ দুটি কম্পন। রাজধানী কারাকাস-সহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয় এবং এর প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোর কিছু অংশেও পৌঁছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ধুলোয় আচ্ছাদিত জীবিত তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানীর উত্তরে অবস্থিত লা গুয়াইরা অঞ্চলকে দুর্যোগ এলাকা ঘোষণা করেছেন রদ্রিগেজ। বহু ভবন ধসে পড়ায় এলাকাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে উদ্ধারকারী দল লা গুয়াইরায় পাঠানো হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য বেসরকারি খাতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে জাতিসংঘ-স্বীকৃত আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলও দেশটিতে পৌঁছানোর পথে রয়েছে।
ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে, রাজধানীর মেট্রো ও গ্যাস সেবাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
এছাড়া কয়েক দিনের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল ও আবাসন পুনর্গঠনের জন্য ২০ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।







