নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪৪তম জন্ম ও ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। রোকেয়া দিবস–২০২৫ উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এই বছরের প্রতিপাদ্য ‘নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি।’
আজ ৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে চারজন বিশিষ্ট নারীকে রোকেয়া পদক প্রদান করা হবে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে নারীশিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার এবং নারী জাগরণ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক এই দেওয়া হয়।
এ বছর রোকেয়া পদক পেয়েছেন- রুভানা রাকিব (নারীশিক্ষা-গবেষণা), কল্পনা আক্তার (নারী অধিকার-শ্রম অধিকার), নাবিলা ইদ্রিস (মানবাধিকার) এবং ঋতুপর্ণা চাকমা (নারী জাগরণ-ক্রীড়া)। জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি তাদের নাম চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করে।
নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তখনকার সমাজে নারীশিক্ষা প্রায় নিষিদ্ধ ছিল। তবুও পরিবারের অগোচরে বড় ভাইয়ের কাছে উর্দু, বাংলা, আরবি ও ফারসি শেখেন তিনি। স্বামী সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সহায়তায় তিনি নারী শিক্ষার প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং প্রতিষ্ঠা করেন নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
তার উল্লেখযোগ্য রচনা- মতিচূর, সুলতানার স্বপ্ন, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী- যেখানে তিনি নারী স্বাধীনতা, শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং সমাজ সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। ২০০৪ সালে বিবিসি বাংলার সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জরিপে তিনি ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন।
নারী মুক্তি, শিক্ষা বিস্তার ও সমঅধিকারের ক্ষেত্রে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অবদান আজো অনুপ্রেরণার উৎস। তার আদর্শকে সামনে রেখে নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারে পালিত হচ্ছে এবারের রোকেয়া দিবস।






