হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন এই অভিযানকে ‘আনুপাতিক জবাব’ হিসেবে বর্ণনা করলেও তেহরান পাল্টা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১০টা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা শুরু হয়। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক সম্পদের ওপর কথিত আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার প্রথম ধাপে হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপ, সিরিক ও জাস্ক বন্দরে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে বুধবার জাস্ক ও বন্দর আব্বাস এলাকাতেও নতুন বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর টহলরত একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ইরানের হামলায় ভূপাতিত হয়েছে। তিনি বলেন, এই ঘটনার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।হেলিকপ্টারটির দুই আরোহীকেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের দুই ক্রু সদস্যকে একটি মানববিহীন সামুদ্রিক যান ব্যবহার করে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ধরনের উদ্ধার অভিযানে বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার এবারই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ইরানের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত বিদেশি সামরিক বাহিনী সবসময় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি নতুন মার্কিন হামলার জবাব দেওয়ারও অঙ্গীকার করেন।

