মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক মন্দার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। তার এই ধরনের মন্তব্যের পরেই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির শেয়ার বাজারে। শুধু আমেরিকাই নয়, ভারত, জাপান, সাউথ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের শেয়ার বাজারেও মঙ্গলবার নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
আনন্দবাজার জানিয়েছে, ওয়াল স্ট্রিটে ধস নেমেছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর শেয়ার বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মঙ্গলবার ভারতের শেয়ার বাজার খোলার পরেও প্রাথমিকভাবে সেনসেক্স সূচকে পতন দেখা গেছে।
২০২২ সাল থেকে চলতি সময় পর্যন্ত ন্যাসড্যাক সূচকে সোমবার সর্বকালীন পতন রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ‘এস অ্যান্ড পি ৫০০’ সূচকেও ফেব্রুয়ারির সর্বোচ্চ স্তর থেকে আট শতাংশ পতন হয়েছে। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আমেরিকায় মন্দার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তার এই মন্তব্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যা ওয়াল স্ট্রিটে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
গত রোববার ফক্স নিউজে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। এই নীরবতাই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আরও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও মার্কিন শীর্ষ আধিকারিকরা বিনিয়োগকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, তবুও ট্রাম্পের মন্তব্যের পর বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ সুরক্ষিত করার চেষ্টায় ব্যস্ত। কেন্টাকির বাজার বিশেষজ্ঞ রস মেফিল্ড রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন শেয়ার বাজারের পতন রোধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, প্রশাসন তাদের বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের জন্য মন্দাকেও মেনে নিতে প্রস্তুত।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে তার নতুন শুল্কনীতি দেশের অর্থনীতিকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। উত্তরে তিনি বলেন, এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী করতে আমি পছন্দ করি না। আমরা একটি বড় কাজ করছি এবং এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমেরিকার সম্পদ পুনরুদ্ধার করা আমাদের লক্ষ্য, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি স্বীকার করেছেন যে এই লক্ষ্য অর্জনে কিছুটা সময় লাগবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরেই সোমবার ওয়াল স্ট্রিটে অস্থিরতা দেখা দেয়। ‘এস অ্যান্ড পি ৫০০’ সূচক ২.৭ শতাংশ নিচে নেমে যায়, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন এবং ডিসেম্বরের পর এক দিনে সবচেয়ে বড় পতন। ‘ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ’ সূচকও ২ শতাংশ নেমে গত বছরের ৪ নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। ন্যাসড্যাক সূচক সোমবার ৪ শতাংশ পতন হয়েছে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
টেসলার শেয়ার দর প্রায় ১৫.৪ শতাংশ কমেছে। এনভিডিয়া, মেটা, অ্যামাজন এবং অ্যালফাবেটের মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরেও পতন হয়েছে। শুধু আমেরিকাই নয়, ভারত, জাপান, সাউথ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের শেয়ার বাজারেও মঙ্গলবার নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ভারতে সেনসেক্স সূচক ৪০০ পয়েন্ট পতন হয়েছে। জাপানের নিকি ২২৫ সূচক ২.৫ শতাংশ, সাউথ কোরিয়ার কোসপি সূচক ২.৩ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এস অ্যান্ড পি/এএসএক্স ২০০ সূচক ১.৮ শতাংশ কমেছে। ইউরোপের স্টক্স ৬০০ সূচকও ১.২৯ শতাংশ নিচে ছিল।







