গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের টেলিকম সংস্থা ‘টেলিকম ইন্টারন্যাশনাল মায়ানমার কোম্পানি লিমিটেড’ (মাইটেল) এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চীনের দিকেও একটি বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক ৯ দিন আগে মিয়ানমার সরকারের উপর এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা ‘ডিপার্টমেন্টের ব্যুরো অফ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি’ জানিয়েছে, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত স্বার্থের পরিপন্থী আচরণের কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে জো বাইডেন প্রশাসন গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ কমিশন (ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন বা এফসিসি) হুয়াইয়ে, জেডটিই, হাইতেরা কমিউনিকেশনস, হাংঝু হিকভিশন ডিজিটাল টেকনোলজি কোম্পানি এবং দাহুয়া টেকনোলজিসহ বেশ কয়েকটি চীনা টেলিকম সংস্থার টেলিযোগাযোগ ও ভিডিও নজরদারি সরঞ্জাম আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল। অভিযোগ ছিল, ৫-জি মোবাইল পরিষেবায় চীনা সরঞ্জামের ব্যবহারের ফলে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য পাচার হওয়ার আশঙ্কার।
চীনা টেলিকম সংস্থাগুলোর সঙ্গে মাইটেলের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ রয়েছে বলে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়। প্রেসিডেন্ট পদে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কার্যকর হয়েছিল ‘সিকিওর অ্যান্ড ট্রাস্টেড কমিউনিকেশনস নেটওয়ার্কস অ্যাক্ট’। সেই আইনকে হাতিয়ার করেই গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিদেশি টেলিযোগাযোগ সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে ওয়াশিংটন।
মাইটেল কর্তৃপক্ষ মানবাধিকার লঙ্ঘন করে বিরোধীদের গতিবিধি চিহ্নিত করতে জান্তা সরকারকে সাহায্য করেছে বলেও জানায় ‘ডিপার্টমেন্টের ব্যুরো অফ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি’। ১৫ মাসের গৃহযুদ্ধে কোণঠাসা হয়ে পড়া জান্তার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদেশগুলো থেকে যন্ত্র ও সরঞ্জাম আমদানি করতে বিপাকে পড়বে তাদের টেলিকম কোম্পানি।







