ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে আটক হওয়া কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। একই সঙ্গে মুক্তি দেওয়া হয়েছে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকেও।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) তথ্যটি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে থেকে জোর করে সরিয়ে রাহুল গান্ধীকে ছত্রাশাল স্টেডিয়ামে নেওয়া হয়েছিল। পরে একটি গাড়িতে করে তাকে সেখান থেকে চলে যেতে দেখা যায়। অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটকের পর মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর সেখানে যান কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টির চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী। পরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকেও থানা থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। আটক হওয়ার পর মুক্তি পাওয়া সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের উচিত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়া। যেভাবে তাদের মারধর করা হয়েছে এবং জামাকাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে, তা কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের আচরণ হতে পারে না। আমরা বিষয়টি সংসদে তুলব।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) ডাকা সোমবারের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার বিকেলে দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কংগ্রেস নেতারা। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক ঘণ্টা বিক্ষোভের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দিল্লি পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের আটক করতে শুরু করে। প্রথমে কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে আটক হন কংগ্রেস সাংসদ সুখজিন্দর সিং, অখিলেশ যাদব, রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পুলিশ রাহুল গান্ধীকে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে নিতে গেলে তিনি সেখান থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানান এবং রাস্তায় বসে পড়েন। একপর্যায়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে জোর করে সরিয়ে নিয়ে যান। ওই সময় তার নাক থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। এরপর প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকেও আটক করা হয়।







