কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা শেষ হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এবং ইরানের জব্দকৃত অর্থ ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তবে আলোচনায় স্থায়ী শান্তি কিংবা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
আজ (২ জুলাই) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, দুই দিনব্যাপী এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকার বিষয়টি তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ আনে তেহরান। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম বৃদ্ধি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করে ইরানি প্রতিনিধিদল।
আলোচনায় উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে একটি ‘দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা’ চালুর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন বা কোনো অনিয়ম দ্রুত নথিভুক্ত ও সমাধানের জন্য এই ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। তিনি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতার একটি শর্ত ভঙ্গ হলেও পুরো চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে।
বৈঠকে ইরানের জব্দকৃত অর্থের একটি অংশ মানবিক ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির কাজে ব্যবহারের বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল না। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন, দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দোহার আলোচনা ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে এবং আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তার ভাষ্য, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি পুনরায় পরমাণু কর্মসূচি জোরদার করে বা আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের বাধা দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সব ধরনের বিকল্প খোলা থাকবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী, এ পথে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়ে দুই পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও কিছু জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে, তবে প্রণালিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। ইরান ইতোমধ্যে জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। মধ্যস্থতাকারীরা আশা করছেন, সাম্প্রতিক এই সংলাপ ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি তৈরি করবে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হবে।








