পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শনিবার (১১ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
আলোচনা শেষে ভ্যান্স বলেন, তিনি সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। তবে ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে মূলগত অঙ্গীকার দেখাতে হবে। আলোচনার পর তিনি পাকিস্তান ত্যাগ করে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আলোচনা ছিল গভীর ও নিবিড়। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত দাবি ও অবৈধ শর্ত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ মেনে নেওয়ার কথা বলেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের উচ্চ পর্যায়ের অংশগ্রহণ এবং আলোচনার ক্ষমতা থাকার কারণেই এই বৈঠক সম্ভব হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কোনো চুক্তি হোক বা না হোক, এতে তার কোনো পার্থক্য নেই এবং যাই ঘটুক, আমরা জিতব।
এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তাদের দুটি নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে এবং সমুদ্রের মাইন অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে এ দাবি অস্বীকার করেছে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এ প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি লেবাননের সঙ্গে এমন একটি শান্তি চুক্তি চান যা দীর্ঘস্থায়ী হবে।
আলোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হলেও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়নি। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নমনীয় ও সহযোগিতামূলক অবস্থান নিয়েছিল।
ভ্যান্স আরও জানান, প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনার সময়ে তিনি একাধিকবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন।
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের প্রয়োজন একটি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং সে সক্ষমতা অর্জনের পথও অনুসরণ করবে না। এটিকেই তিনি ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস হয়ে গেছে, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে এখনো প্রয়োজনীয় অঙ্গীকার পাওয়া যায়নি।







