ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ইকুরিয়া থেকে অপহৃত পটুয়াখালী জেলার মৌকরন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী রাইসুল ইসলাম ওরফে সেলিম (৪৫) কে উদ্ধারসহ অপহরণকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি-মিরপুর বিভাগ।
গ্রেপ্তারেরা হলেন মোহাম্মদ ফরহাদ, তৌফিক রাহাত, রিপন মাহমুদ নয়ন, মো. আমির হোসেন ও মোহাম্মদ দিদার।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ দোলেস্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ দিকের বিল্ডিংয়ের একটি কক্ষ থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অপহরণকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিবি-মিরপুর বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ, গাড়ি চুরি প্রতিরোধ ও উদ্ধার টিম।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সস্মেলনে এসব তথ্য তেজগাঁও বিভাগের (ডিবি) উপ পুলিশ কমিশনার মো. মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগী কাজী রাইসুল ইসলাম ওরফে সেলিম গত ৩১ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পটুয়াখালী থেকে গ্রীন লাইন পরিবহনের একটি বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। ১ জানুয়ারি সকালে অনুমান ৬টার সময় তিনি তার স্ত্রীকে ফোন করে জানান যে, তিনি যে বাসে এসছেন সে বাসটি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া বিআরটিএ এর সামনে এসে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন লোক বাসে উঠে বাসের ড্রাইভার, হেলপার ও অন্যান্য যাত্রীদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোর করে বাস থেকে নামিয়ে একটি প্রাইভেটকারে করে অজ্ঞাতনামা স্থানে নিয়ে আটক করে রেখেছে। অপহরণকারীদের একজন তার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না দিলে তার স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

এরপর থেকে ভিকটিমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তখন ভিকটিমের স্ত্রী আত্মীয়-স্বজনসহ গ্রীন লাইনের কাউন্টারে গিয়ে বাসের ড্রাইভার ও হেলপারদের সাথে ফোনে কথা বললে তারা জানায়, ৩১ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ৩:৩০ টায় বাসটি ইকুরিয়া বিআরটিএ এর সামনে ঢাকা মাওয়া মহাসড়কের পাশে থামলে একজন যাত্রী বাস থেকে নামে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ লোক বাসে উঠে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের প্রেক্ষিতে মিরপুর বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এই উপ কমিশনার জানান, ভুক্তভোগী কাজী রাইসুল ইসলাম ওরফে সেলিমের পরিবারের কাছ থেকে অপহরণকারীরা এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে তারা বিভিন্ন বিকাশ নাম্বারের মাধ্যমে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। অপহরণের পর ভিকটিম কাজী রাইসুল ইসলাম সেলিমকে অপহরণকারীরা দুই রাত আটকে রেখে তাকে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করে।







