বিশ্বের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর শক্তিশালী জোট ‘ওপেক’ এবং ‘ওপেক প্লাস’ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
দেশটির এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন এই জোটের জন্য এটি একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এমন এক সময়ে এই ঘোষণাটি এল যখন ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি একটি ঐতিহাসিক জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ওপেকের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে আমিরাতের এই প্রস্থান জোটটির একক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নিজেদের নিরাপত্তা এবং স্বার্থ রক্ষায় আরব দেশগুলোর ভূমিকায় সন্তুষ্ট নয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অব্যাহত হুমকি এবং হামলার মুখে আমিরাত বারবার সাহায্যের আবেদন করলেও ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশটি মনে করছে, সহযোগী দেশগুলো তাদের রক্ষায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির এক-পঞ্চমাংশ এই সরু হরমুজ প্রণালী দিয়েই যাতায়াত করে, যা বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওপেক বর্তমানে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করে। আমিরাতের মতো বড় উৎপাদনকারী দেশ বেরিয়ে যাওয়ায় তেলের উৎপাদন ও মূল্য নির্ধারণে সৌদি আরবের একচ্ছত্র ক্ষমতায় টান পড়বে। এর ফলে জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা বাড়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।








