পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে চাচা কাজিমুদ্দিনের সঙ্গে লতিফের দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হত। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে লফিত তারা চাচাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
সাভারের আশুলিয়ায় ব্যবসায়ী ও পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ঠিকাদার কাজিমুদ্দিনকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে বৃহস্পতিবার আব্দুল লতিফ খানকে আশুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তার লতিফ ব্যবসায়ী কাজিমুদ্দিনের ভাতিজা। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে লতিফ তার চাচাদের সঙ্গে থাকতেন।
শুক্রবার ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কারওয়ানবাজার র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে কমান্ডার মঈন বলেন, বুধবার আশুলিয়ার ডেন্ডাবর এলাকায় ‘লিপি ডেইরি ফার্মের’ থেকে এর মালিক কাজিমুদ্দিনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, লতিফের পৈত্রিক সম্পত্তির অংশীদারিত্ব নিয়ে কাজিমুদ্দিনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিষয়ে প্রায় সময় তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হতো বলে জানা যায়। গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে কাজিমুদ্দিন নিজস্ব মালিকানাধীন ডেইরি ফার্মে তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে দেখতে আসে। ডেইরি ফার্মটি ভুক্তেভোগীর বাসার পাশে হওয়ায় ভিকটিম তার স্ত্রী ও সন্তানকে বাসায় পাঠিয়ে দেয় এবং ডেইরি ফার্মের বিশ্রাম রুমে রাতে থাকার জন্য অবস্থান করে। পরে সেদিন রাতেই লতিফ ভুক্তভোগী কাজিমউদ্দিনের ডেইরি ফার্মে এসে তার পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে কথা বললে তার বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে লতিফ রুমে থাকা বটি নিয়ে ভিকটিমের গলায় কোপ দিয়ে হত্যা করে। লতিফ হত্যার ঘটনাটি যেন কেউ বুঝতে না পারে সেই জন্য ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে রুমের দরজা তালা দিয়ে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি পাশের রুমে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, পরে ৭ ফেব্রুয়ারি সকালে ভিকটিমের স্ত্রী ফার্মে গিয়ে বিশ্রাম রুমের দরজা তালা দেওয়া দেখে ধারণা করে যে, তার স্বামী বাহিরে গেছে। বিশ্রাম রুমের একটি চাবি ভিকটিমের কাছে এবং অপর একটি চাবি তার স্ত্রীর কাছে থাকত। এরপর ফার্মের কাজের লোক গরুর ওষুধ নেওয়ার জন্য রুমের চাবি নিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে ভুক্তভোগীর গলাকাটা নিথর দেহ ঘরের বিছানার ওপরে দেখতে পায়।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে লতিফ গ্রেপ্তার এড়াতে সাভারের আশুলিয়া এলাকায় আত্মগোপন করে। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তারের বিষয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।







