গাজা উপত্যকায় পূর্ণ পুনর্দখলে সামরিক অভিযান পুরোপুরি বিস্তারের পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, এই খবরে তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনচা।
তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত শঙ্কাজনক, যা ফিলিস্তিনিদের ও হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু চলতি সপ্তাহে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন, যেখানে গাজায় পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা অনুমোদনের বিষয়টি আলোচিত হতে পারে।
একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, কোনো ফেরার পথ নেই। আমরা গাজার পূর্ণ দখলের দিকে এগোচ্ছি এবং হামাসকে পরাজিত করবো।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি হয়তো হামাসের উপর চাপ সৃষ্টি করতে কূটনৈতিক কৌশলও হতে পারে, যেহেতু সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেঙে পড়েছে। আবার নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট অংশীদারদের সমর্থন নিশ্চিত করতেও এমন পরিকল্পনার কথা বলা হতে পারে।
এদিকে, সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গাজা পুনর্দখলের সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের উপর নির্ভর করছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে গাজার ৭৫ শতাংশ অংশে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষের বসবাসকারী পুরো গাজা দখলে নেয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এই প্রস্তাব দেশটির অভ্যন্তরেও বিভাজন সৃষ্টি করেছে। সামরিক বাহিনীর প্রধানসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এর বিরোধিতা করছেন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, যদি সেনাপ্রধানের কাছে এটা গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে তাকে পদত্যাগ করা উচিত।
জিম্মিদের পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত তাদের প্রিয়জনদের জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে।
ইসরায়েল দাবি করেছে, এখনও গাজায় ৪৯ জন জিম্মি রয়েছে, যাদের মধ্যে ২৭ জনকে মৃত বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনচা পুনরায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান এবং অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে সব জিম্মি মুক্তির দাবি তোলেন।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিরা বর্তমানে যে অমানবিক এবং নোংরা অবস্থায় রয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে ইসরায়েলকে দ্রুত এবং পূর্ণাঙ্গভাবে মানবিক সহায়তা প্রবেশে অনুমতি দিতে হবে।
জেনচা অভিযোগ করেন, ইসরায়েল এখনও গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ কঠোরভাবে সীমিত করে রেখেছে। যে পরিমাণ সাহায্য প্রবেশ করতে দিচ্ছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
তিনি আরও বলেন, গত মে মাসের শেষ দিক থেকে খাদ্য ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
গাজার হামাস-পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত খাদ্যাভাবের কারণে অন্তত ১৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৮৯ জনই শিশু।
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক করে বলছে, গাজায় মানুষের সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ চলছে এবং এই মাসেই অপুষ্টিজনিত কারণে ৬৩ জন মারা গেছেন।
ইসরায়েল যদিও দাবি করে আসছে, তারা ত্রাণ সরবরাহে কোনো বাধা দিচ্ছে না এবং গাজায় কোনও দুর্ভিক্ষ চলছে না।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত ও ২৫১ জনকে গাজায় নিয়ে যাওয়ার পর থেকে গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।








