এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো আফগানদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ।
সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইরান ও পাকিস্তান থেকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো নাগরিকদের ওপর তালেবান কর্তৃপক্ষ নির্যাতন, বেআইনি আটক এবং নিরাপত্তা হুমকির মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন চালাচ্ছে।
২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১৯ লাখেরও বেশি আফগান নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ইরান থেকে এসেছিলেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, চরম মানবিক সংকটের মধ্যে এ বছর আফগানিস্তানে ফেরত আসা মানুষের সংখ্যা ৩০ লাখ পর্যন্ত উঠতে পারে।
জাতিসংঘ সহায়তা মিশন (ইউনামা) এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের যৌথ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেরত আসা আফগানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন নারীরা, সাবেক সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা, গণমাধ্যমকর্মী এবং নাগরিক সমাজের কর্মীরা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তালেবান কর্তৃপক্ষ এসব ব্যক্তির নির্দিষ্ট পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্যাতন, দুর্ব্যবহার, বেআইনি গ্রেপ্তার ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার হুমকি দিচ্ছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, কোনো ব্যক্তিকে এমন কোনো দেশে ফেরত পাঠানো উচিত নয়, যেখানে তার পরিচয় বা অতীত ইতিহাসের কারণে নির্যাতনের ঝুঁকি থাকে। আফগানিস্তানে নারীরা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছেন। শুধুমাত্র লিঙ্গের ভিত্তিতেই তারা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।
লিঙ্গ ভিত্তিক বর্ণবাদী নিপীড়ন
গত চার বছরে তালেবান শাসনের অধীনে আফগান নারীরা ক্রমশ জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়, পার্ক, জিম এবং বিউটি পার্লারে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে তালেবান কর্তৃপক্ষ। জাতিসংঘ একে ‘জেন্ডার অ্যাপারথেইড’ বা লিঙ্গভিত্তিক বর্ণবাদী নিপীড়ন বলছে।
২০২১ সালে বিদেশি বাহিনী প্রত্যাহারের পর তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে রাশিয়া একমাত্র দেশ যারা তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান ও ইরানের পথ ধরে তাজিকিস্তানও আফগান নাগরিকদের বহিষ্কারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ৮ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৭৭ জন আফগানকে তাজিকিস্তান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জার্মানি সম্প্রতি ৮১ জন আফগান অপরাধীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও কয়েক হাজার আফগান নাগরিকের অস্থায়ী সুরক্ষা সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জাতিসংঘ বলেছে, আফগানিস্তানে এই গণবহিষ্কারের ফলে একটি বহুমাত্রিক মানবাধিকার সংকট তৈরি হয়েছে এবং সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।








