জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছে রাশিয়া। নিরাপত্তা পরিষদের নেতৃত্ব যেন রাশিয়া নিতে না পারে, সেজন্য নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদেশগুলোকে ইউক্রেন আহ্বান জানালেও তা কাজে আসেনি। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউক্রেন।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ১৫টি সদস্যদেশ প্রতি মাসে পালাক্রমে সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে থাকে।
ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের চিফ অফ স্টাফ অ্যান্ড্রি ইয়ারমাক বলেছেন, এটি শুধু একটি লজ্জা নয়। এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার জন্য আরেকটি প্রতীকী আঘাত।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা বলেছেন, রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণ করা ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মুখে একটি চপেটাঘাত’।
রাশিয়া সর্বশেষ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। ওই মাসে ইউক্রেনে বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া।
বিবিসি বলছে, এমন একটি দেশ এখন নিরাপত্তা পরিষদের নেতৃত্ব দেবে, যে দেশের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। গত মাসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, যেটি জাতিসংঘের কোনো সংস্থা নয়।
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার জন্য ইউক্রেন দাবি জানালেও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদেশ রাশিয়াকে সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে বাধা দিতে পারে না তারা। উল্লেখ্য, রাশিয়া ছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য অন্য চারটি দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও চীন।
নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির ভূমিকা পদ্ধতিগত হলেও জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া রুশ বার্তা সংস্থা তাসকে বলেছেন, এ সময় তিনি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণসহ বিতর্কিত কিছু বিষয় তদারকির পরিকল্পনা করছেন। বর্তমানে এক মেরু বিশ্বব্যবস্থায় বদল আনতে নতুন বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা তুলবেন।








