এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করে সাধারণ দর্শকের মন জয় করেছিলেন নায়িকা অঞ্জনা। সেই সাথে পেয়েছিলেন জাতীয় স্বীকৃতি। রাজ্জাক থেকে শুরু করে আলমগীর, উজ্জ্বল হয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন ও মান্নার সাথেও অভিনয় করেছেন তিনি।
সহকর্মীদের অনেকেই গত হয়েছেন। যারা বেঁচে আছেন, তাদের বেশীরভাগই অঞ্জনার শেষ বিদায়ে উপস্থিত হয়েছিলেন এফডিসিতে। শনিবার দুপুরে এফডিসি প্রাঙ্গণে অঞ্জনার মরদেহ দেখতে এসে তাই স্মৃতিকাতর সকলে!
অঞ্জনাকে হারানোর দিনে সহকর্মী নায়ক উজ্জ্বলের অনুভূতি কেমন? জানতে চাইলে প্রথমেই এই নায়ক বলেন,“অঞ্জনাকে হারালাম- এই ‘হারালাম’ শব্দটি আমি মনে করি সঠিক হবে না।”
কেন সঠিক হবে না, এ নিয়ে বিস্তর কথা বলেন উজ্জ্বল। বলেন,“আমরা যারাই এই পৃথিবীতে জন্ম নিই, তারা কর্ম করে চলে যাওয়ার জন্যই পৃথিবীতে আসি। সেই ক্ষেত্রে আমরা যারা শিল্পী এবং শিল্পী হিসেবে অঞ্জনা প্রচুর কাজ করে গেছেন। তার যে শিল্পী সত্তা ছিলো, অনেক বড় প্রতিভাবান একজন শিল্পী ছিলেন তিনি- একাধারে তিনি নৃত্যশিল্পী ছিলেন।”
স্মৃতিকাতর উজ্জ্বল বলতে থাকেন,“সেই সময়ে অঞ্জনা নৃত্যশিল্পী ছিলেন, যখন নৃত্যতে যারা বিশেষায়িত ছিলেন- তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম একজন ছিলেন। পরে তিনি নিজস্ব প্রতিভা নিয়ে চলচ্চিত্রেও জায়গা করে নেন।”
উজ্জ্বল এসময় বলেন,“আমরা যখন চলচ্চিত্রে কাজ করেছি, তখন ভেতরে ভেতরে কারো জেলাসি থাকতো না- তবে প্রতিযোগিতা থাকতো। সেই প্রতিযোগিতায় টিকে থেকে সিনেপ্রেমী দর্শকের মন জয় করা অন্তত কঠিন কাজ ছিলো। সেটা খুব দারুণভাবেই অঞ্জনা করেছেন, এবং সফল হয়েছেন। সে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে, জনগণের স্বীকৃতি পেয়েছে। আমি মনে করি তার এই কর্ম এবং স্বীকৃতি আমাদের এই চলচ্চিত্রশিল্পে দীর্ঘদিন জীবিত রাখবে।”
ব্যক্তি মানুষ হিসেবে অঞ্জনা সম্পর্কে মূল্যায়ণ করে উজ্জ্বল এসময় বলেন, “অঞ্জনা খুব সহজ সরল মানুষ ছিলেন। সব সময় স্বাভাবিকভাবে সবার সাথে মিশতো। সবার সাথে তার যে আন্তরিক সম্পর্ক ছিলো, সে কারণেই আমি মনে করি চলচ্চিত্র শিল্পের অনেকেই আজ তার বিদায়লগ্নে এফডিসিতে এসে উপস্থিত হয়েছেন। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করছেন। আমি মনে করি, এটি অঞ্জনার সরলতার অনেক বড় একটা প্রাপ্তি।”
অঞ্জনার অভিনয় জীবন শুরু হয় ১৯৭৬ সালে বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘সেতু’ চলচ্চিত্র দিয়ে। তবে তার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র শামসুদ্দিন টগর পরিচালিত দস্যু বনহুর (১৯৭৬)। রহস্য ভিত্তিক এই ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন সোহেল রানা।
১৯৭৮ সালে তিনি আজিজুর রহমান পরিচালিত ‘অশিক্ষিত’ চলচ্চিত্রে নায়ক রাজ রাজ্জাকের বিপরীতে লাইলি চরিত্রে অভিনয় করেন। রাজ্জাকের বিপরীতে তিনি ৩০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়া আলমগীর, জসিম, বুলবুল আহমেদ, জাফর ইকবাল, ওয়াসিম, উজ্জ্বল, ফারুক, ইলিয়াস জাভেদ , মিঠুন চক্রবর্তী, (ভারত) ইলিয়াস কাঞ্চন, সোহেল চৌধুরী, রুবেল, সুব্রত বড়ুয়া, মান্নার মতো তারকা নায়কদের সাথে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক প্রশংসিত হন।







