২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ক্লাব ফুটবলের শেষ ম্যাচ রাতে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল। মুখোমুখি আর্সেনাল এবং পিএসজি। মহারণের আগে চলছে শেষ মুহূর্তের ঝালাই। দেখার অপেক্ষা- পিএসজির টানা দ্বিতীয় নাকি ২০ বছর পর ফাইনালে আসা আর্সেনালের প্রথম শিরোপা। চলতি মৌসুমে লিগ ওয়ান এবং প্রিমিয়ার লিগে দুই চ্যাম্পিয়নের কোন একটি দল ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে। তার আগে দেখে নেয়া যাক পরিসংখ্যানের খতিয়ান।
শনিবার রাতে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে পুসকাস অ্যারেনায় লড়বে পিএসজি-আর্সেনাল। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় গড়াবে ম্যাচ। প্রচলিত সময়ের চেয়ে ৩ ঘণ্টা আগে শুরু হবে খেলা। ম্যাচটি ইউরোপের ভেন্যু সময় রাত ৯টার বদলে সন্ধ্যা ৬টায় গড়াবে। ম্যাচের আগে সমর্থকদের যাতায়াত সহজ ও ম্যাচের পর ফেরা নিরাপদ করতে এবং বিশ্বজুড়ে সম্প্রচারের সুবিধা তুলতে, সাথে ফাইনালের পর উদযাপনের জন্য বাড়তি সময় দিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে উয়েফা।
ম্যাচের আগে আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা বলেছেন পিএসজি থেকে ট্রফি ছিনিয়ে আনার কথা। অন্যদিকে, প্যারিসিয়ানদের কোচ লুইস এনরিকে চান টানা দ্বিতীয় শিরোপা। আর্তেতা বলেছেন, ‘পিএসজি চ্যাম্পিয়ন এবং আমরা তাদের কাছ থেকে শিরোপাটা ছিনিয়ে নিতে এসেছি।’
অবশ্য আর্সেনালকে কঠিন প্রতিপক্ষ মনে করছেন এনরিকে। বলেছেন, ‘তারা প্রিমিয়ার লিগ জেতায় অবাক হইনি। আর্সেনাল এর যোগ্য ছিল। তারাই সবচেয়ে ধারাবাহিক দল, তারাই ইংল্যান্ডের সেরা দল।’
ইউরোপের মঞ্চে পিএসজি এবং আর্সেনাল ৭ বার মুখোমুখি হয়েছে। দুদলই দুটি করে জয় ও তিনটি ড্র করেছে। তাদের সবশেষ সাক্ষাৎ ছিল গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে, ফরাসি ক্লাবটি দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ গোলে জিতে ফাইনালে গিয়েছিল। উসমানে ডেম্বেলের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে অ্যাওয়ে জয় এনে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে জিতেছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজি।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি প্রথম ফরাসি ক্লাব হিসেবে তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে পৌঁছেছে। যার মধ্যে টানা দুটি ফাইনালে খেলা ফ্রান্সের প্রথম দল। গত মৌসুমে ফ্রান্স চ্যাম্পিয়নরা ১৯৯২/৯৩ সালে মার্শেইয়ের জয়ের পর দ্বিতীয় ফরাসি দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে। চলতি মৌসুমে তারা লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ক্লাবটি ১১তম থেকে লিগপর্ব শেষ করেছে। যেখানে ৮ ম্যাচে ৪ জয়ে এবং দুটি করে ড্র ও হার নিয়ে লিগপর্ব শেষ করেছিল। সেমিতে তারা উড়তে থাকা বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়েছে।
অন্যদিকে আসরজুড়েই অপরাজিত রয়েছে আর্সেনাল। লিগপর্বে ৮ ম্যাচে ৮ জয় নিয়ে নকআউটে পৌঁছেছে গানার বাহিনী। পাশপাশি ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা জিতেছে দলটি।
বর্তমানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিজ্ঞতায় ইংলিশ ক্লাবটির চেয়ে ফরাসি ক্লাবটি বেশ এগিয়ে। গেল ২০ বছরে প্রথম ফাইনালে এসেছে গানাররা। লুইস এনরিকের অধীনে ইতিমধ্যে পিএসজি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। গত মৌসুমে ফাইনালে ইন্টার মিলানকে রীতিমত উড়িয়ে দিয়েছিল তারা। ইতালিয়ান ক্লাবটিকে ৫-০ গোলে হারিয়েছিল পিএসজি। গত মৌসুমে জেতা শিরোপা এবং ২০১৫ সালে বার্সেলোনার ডাগআউটে জয়ের পর এটি হতে পারে এনরিকের তৃতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা।
এনরিকের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কৌশলটি হল দ্রুত বল নিয়ন্ত্রণের উপর ভিত্তি তৈরি করা। দলটি সামনে তিনজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের গতি ব্যবহার করে দ্রুত আক্রমণে যেতে পারে। রক্ষণাত্মক দৃঢ়তাও ধরে রাখতে পারে। ফরাসি ক্লাবটি সেমির দ্বিতীয় লেগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে এ কৌশলে ব্যবহার করেছিল।
মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল সেটপিসের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে, যা তাদের অন্যতম বড় শক্তি। এ বৈশিষ্ট্যের কারণে বল দখলে থাকা অবস্থায় ওপেন প্লেতে তাদের থামানো প্রায়শই সহজ হয়ে যায়। তবে রক্ষণভাগে বেশ ধরে খেলতে পারে আর্তেতার দল, ফলে প্রতিপক্ষের আক্রমণ অনেক সময় কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়।
এনরিকে সাধারণত ৪-৩-৩ ফর্মেশনে খেলান। সেদিক থেকে আর্সেনালের বিপক্ষে পিএসজির সম্ভাব্য একাদশের চারজন রক্ষণে থাকতে পারেন। নুনো মেন্ডেস, মার্কুইনহোস, লুকাস হার্নান্দেজ এবং উইলিয়ান পাচো। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন দুই পর্তুগিজ জোয়াও নেভেস, ভিতিনহা। যাদের সঙ্গী হতে পারেন ফ্যাবিয়ান রুইজ। ফরাসিরা আক্রমণে বরাবরই প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি, সেখানে এনরিকের প্রথম পছন্দে দুই পাশে হতে পারেন খাভিচা কাভারাসকেলিয়া এবং ডিসায়ার দুয়ো, যাদের মাঝখানে থেকে সাহয্য করবেন ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমানে ডেম্বেলে। দলটির পোস্ট সামলাতে আছেন মাতভে সাফোনভ।
আর্তেতাও সাধারণত ৪-৩-৩ ফর্মেশনেই খেলান। গানারদের সম্ভাব্য একাদশে রক্ষণে আছেন উইলিয়াম সালিবা, রিকার্ডো ক্যালাফিওরি, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস এবং বেন হোয়াইট। ক্লাবটির মাঝমাঠে ভরসা এবেরেচি এজে এবং ডেক্লান রাইস, সঙ্গে আছেন মার্টিন অসগার্ড। আর্সেনালের আক্রমণ বেশ শক্তিশালী, আছেন ভিক্টর গায়কোরেস, কাই হাভার্টজ, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি এবং বুকায়ো সাকা, ৪ জনের মধ্যে সাধারণত হাভার্টজই বদলি নেমে থাকেন। এদিক থেকে পোস্ট সামলাতে ইংলিশ ক্লাবটির প্রথম পছন্দ ডেভিড রায়া।
আর্সেনালের হাতে আছে ইংল্যান্ডকে গড়ে দিতে পারা এক ইতিহাস। ইতিমধ্যে ইউরোপের বাকি দুটি লিগের মধ্যে ইউরোপা লিগ জিতেছে ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলা এবং কনফারেন্স লিগ জিতেছে আরেক ইংলিশ ক্লাব ক্রিস্টাল প্যালেস। রাতে আর্সেনাল জিতলে চলতি মৌসুমে ইউরোপের তিন টুর্নামেন্টের সবকটি শিরোপা যাবে ইংল্যান্ডে।








