নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে মেঘনা নদীতে ফেলে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড ও নাগরিয়াকান্দি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শাহিনারা বেগম (৫২) ও রমজান আলী (২২)। এ নিয়ে আলোচিত এ ঘটনায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার (২৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাগরিয়াকান্দি সেতুর ওপর থেকে মোহাম্মদ আলী (২৫) নামে এক তরুণ একটি কুকুরের গলায় রশি ও ইট বেঁধে নদীতে ফেলে দেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে নাগরিয়াকান্দি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নরসিংদী মডেল থানার উপপরিদর্শক নোমান সাদেকিন মোহাম্মদ আলী ও মো. রমজান মিয়ার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২৯/৩৪ ধারায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এনিমেল কমিউনিটি ওয়েলফেয়ার অব বাংলাদেশ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজনের সহায়তায় একটি কুকুরের গলায় রশি বেঁধে অপর প্রান্তে ইট লাগিয়ে নির্মমভাবে মেঘনা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ আলী পুলিশকে জানান, কুকুরটি প্রায়ই এলাকায় উপদ্রব করত এবং মানুষকে কামড়ানোর চেষ্টা করত। এ কারণেই সেটিকে সেতুর ওপর নিয়ে গিয়ে গলায় রশি ও ইট বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। গলায় ইট বাঁধা থাকায় কুকুরটি তীরে উঠতে না পেরে পানিতেই মারা যায়।
উপপরিদর্শক নোমান সাদেকিন বলেন, মোহাম্মদ আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সহযোগীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শাহিনারা বেগম ও রমজান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার শাহিনারা বেগমের কামারগাঁওয়ের বাড়িতেই কুকুরটি থাকত। বাড়ির সদস্যদের অভিযোগ ছিল, প্রাণীটি প্রায়ই উপদ্রব সৃষ্টি করত এবং কামড়ে দেওয়ার চেষ্টা করত। পরে শাহিনারা বেগম পাশের বাড়ির মোহাম্মদ আলীকে কুকুরটিকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সেটিকে নাগরিয়াকান্দি সেতুতে নিয়ে যান। এরপর কুকুরটির গলায় ইট বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
এদিকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নজরে আসে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান (নাহিদ)-এর। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মোহাম্মদ আলীকে ধরে নাগরিয়াকান্দি সেতুতে আনা হয়। সেখানে উপস্থিত মানুষের সামনে তাকে ‘আমরা মানুষ, আমরা যেন পশু না হই’ বলতে এবং কানে ধরে ওঠবস করতে বলা হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।







