প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক সাইফুল আলমের বাসা থেকে ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুদকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে তার ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে ওই টাকা উদ্ধার করা হয়।
আজ রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এসব তথ্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে দুদকে একটি অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ক্যান্টনমেন্টে তার বাসা থেকে ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তা জব্দ করা হয়।
চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাইফুল আলমকে আটক করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় তার বাসা থেকে ডিজিএফআই-এর একটি দল তাকে নিয়ে যায়।
শেখ হাসিনার গুম-খুনের প্রত্যক্ষ সহযোগী অবসরপ্রাপ্ত এই লেফটেন্যান্ট জেনারেলের বিরুদ্ধে বর্তমান অর্ন্তবর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করতে নানা ষড়যন্ত্রেরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গুমের মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর মো. সাইফুল আলমকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সেনাবাহিনী। দেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সাইফুল আলমকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছিল।
গত ৩ সেপ্টেম্বর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সাইফুল আলম ও তার স্ত্রী লুবনা আফরোজের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের সন্তান ও মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবও স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
সাইফুল আলম বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ১৪তম বিএমএ লং কোর্সের ক্যাডেট হিসেবে সেনাবাহিনীতে কমিশন পান। তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট ছিলেন। এছাড়া তিনি সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক এবং বগুড়া সেনানিবাসের ১১ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাইফুল আলমকে ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।








