ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল কাঁপিয়ে দেয়। এতে বহু ভবন ধসে পড়ে এবং আতঙ্কে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে।
দেলসি রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিমানবন্দর, রেল ও কিছু পরিবহন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটের দিকে প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্র ছিল কারাকাসের পশ্চিমে অবস্থিত অঞ্চলের কাছে এবং গভীরতা ছিল প্রায় ২২ কিলোমিটার। মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর ১০ কিলোমিটার গভীরতায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।
উভয় ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল রাজধানীর বাইরে হলেও কারাকাসজুড়ে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। কম্পন প্রতিবেশী কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে ২০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো, মিরান্দা ও ফ্যালকন অঞ্চল।
উল্লেখ্য, ভূমিকম্পের ঘটনাটি ঘটে ভেনেজুয়েলার জাতীয় ছুটির দিনে। দেশটি সেদিন ১৮২১ সালের ঐতিহাসিক কারাবোবো যুদ্ধের বিজয় দিবস পালন করছিল, যখন অধিকাংশ মানুষ নিজ নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন।







