গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডের সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত ক্রয় নিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আগামী ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।
ট্রাম্প জানান, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও অন্যান্য ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো এই শুল্কের আওতায় পড়বে। এর একদিন আগে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে গ্রিনল্যান্ড পরিকল্পনায় সমর্থন না দিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইউরোপীয় নেতারা এ বিষয়ে একমত হয়ে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দায়িত্ব কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের। এর মধ্যেই ডেনমার্ক ঘোষণা দিয়েছে, মিত্রদের সহযোগিতায় তারা গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করবে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইউরোপীয় সামরিক উপস্থিতি ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের লক্ষ্যকে প্রভাবিত করবে না। এ প্রসঙ্গে ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনীর মন্ত্রী অ্যালিস রুফো বলেন, এটি ইউরোপের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুতিরই একটি ইঙ্গিত।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন, খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সপ্তাহের শুরুতে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তা অগ্রহণযোগ্য হবে। চীন ও রাশিয়ার প্রভাব ঠেকাতেই গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ প্রয়োজন বলে যুক্তি দেন তিনি।
এরই মধ্যে বুধবার ওয়াশিংটনে বৈঠকের পর ডেনিশ প্রতিনিধিরা জানান, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোপেনহেগেন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মৌলিক মতবিরোধ রয়েছে।
মার্কিন দখলের হুমকির প্রতিবাদে শনিবার ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে হাজার হাজার মানুষ মিছিল করেছে। বিক্ষোভকারীদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়ি, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং গ্রিনল্যান্ড ইতোমধ্যেই দুর্দান্ত।
এদিকে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন স্পষ্ট করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের কোনো মার্কিন অধিগ্রহণের সম্ভাবনা নেই। তাঁর ভাষায়, এটি প্রশ্নাতীত। আমরা ডেনমার্কে বা গ্রিনল্যান্ডে এটি চাই না। এটি আন্তর্জাতিক সব নিয়মের পরিপন্থী এবং সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেনও অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন, যদি এখনই যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে একটি বেছে নিতে হয়, তাহলে আমরা ডেনমার্ককেই বেছে নেব। আমরা ন্যাটোকে, ডেনমার্কের রাজ্যকে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বেছে নেব।









