ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কতদিন যুদ্ধ চালাবে এবং সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী এই প্রশ্নে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং সোমবার (৯ মার্চ) দেওয়া তাঁর বক্তব্যে দেখা গেছে অস্পষ্টতা ও পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত।
সংবাদমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান এখন চলছে এবং এটি শেষ করার জন্য একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেই পরিকল্পনার বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।
প্রায় ৩৫ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প নির্দিষ্ট সময়সীমা বা কৌশল নিয়ে কথা না বলে বরং এখন পর্যন্ত ইরানের সামরিক সক্ষমতার কতটা ধ্বংস করা হয়েছে, সে বিষয়েই বেশি জোর দেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ অনেকটা পরিপূর্ণ অবস্থায় আছে। তবে যুদ্ধ এই সপ্তাহেই শেষ হতে পারে কি না এ প্রশ্নে তিনি নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ না করে বলেন, না, তবে শিগগিরই শেষ হবে। খুব শিগগিরই।
এক পর্যায়ে সাংবাদিকরা তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের অসামঞ্জস্যের কথা তুললে ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি দুটোই বলা যায়। এরপর তিনি আবার বলেন, এটি একটি নতুন দেশ গড়ে তোলার শুরু।
তবে এর আগে ট্রাম্প ও তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টারা ইরানে ‘দেশ গঠন’ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে ফোনালাপের পর অনেকের ধারণা হয়েছিল, ট্রাম্প হয়তো সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেবেন। কিন্তু তিনি তা না করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। ট্রাম্প বলেন, “আমরা এটাকে বিশাল সাফল্য বলতে পারি, অথবা আরও এগোতে পারি। আমরা আরও এগোব।”
সংবাদ সম্মেলনের আগে রিপাবলিকান নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যেও ট্রাম্প বলেন, “আমরা অনেক দিক থেকে জিতেছি, কিন্তু এখনো যথেষ্ট জিতিনি।”
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার। তাঁর মতে, ইরান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য বা কৌশল নেই।
নিউইয়র্ক থেকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় শুমার বলেন, ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলন ছিল সম্পূর্ণ ইঙ্গিতহীন। তিনি কোনো পরিকল্পনা বা লক্ষ্য ব্যাখ্যা করতে পারেননি। কারণ সম্ভবত তাঁর কোনো পরিকল্পনাই নেই। মুহূর্তের আবেগে তিনি বিশ্ব অর্থনীতি ও লাখো মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।
এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল রাখতে কিছু দেশের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এর আগে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়ার তেলের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পক্ষে ছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে সেই নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করা নাও হতে পারে। তাঁর ভাষায়, কে জানে হয়তো এগুলো আর লাগবে না, তখন অনেক শান্তি থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান কোনোভাবে একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে এবং তা ব্যবহার করে মিনাব শহরের একটি মেয়েদের স্কুলে হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় ১৬৮ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই শিশু।
তবে এই হামলার দায় যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করবে কি না এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, অনেক দেশই টমাহক ব্যবহার করে এবং ইরানের কাছেও কিছু টমাহক আছে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন। এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপনি ইঙ্গিত দিলেন যে ইরান নিজের স্কুলে টমাহক দিয়ে হামলা করেছে। আপনার প্রশাসনের অন্য কেউ কেন এমন কথা বলছে না?
জবাবে ট্রাম্প বলেন, কারণ আমি এ বিষয়ে পুরোপুরি জানি না। সম্ভবত তদন্তাধীন একটি বিষয় নিয়ে আমি কথা বলেছি।








