গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ২০ দফা প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে তিন থেকে চার দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ২৯ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই আল্টিমেটামের কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মঙ্গলবার ৩০ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদেনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, আমরা এখন কেবল হামাসের অপেক্ষায় আছি। তিনি আরও বলেন, সব আরব দেশ ও মুসলিম দেশগুলো এই প্রস্তাবে সই করেছে। ইসরায়েলও সই করেছে। যদি হামাস এই চুক্তিতে সই না করে, তবে তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক সমাপ্তি।
হোয়াইট হাউজের লনে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, গাজা যুদ্ধ বন্ধে তাঁর দেওয়া ২০ দফা প্রস্তাবই শান্তির একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ। যদি হামাস প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে ইসরায়েলের যেকোনো পদক্ষেপে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
হামাস যদি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তাহলে ইসরায়েল কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে — এমন প্রশ্নে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো ইঙ্গিত না দিলেও বলেন, ইসরায়েল তখন যা করতে চাইবে, তাদের তাই করতে দেবেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, হামাস ইতোমধ্যেই চড়া মূল্য দিয়েছে এবং তাদের নেতৃত্ব তিন দফায় হত্যার শিকার হয়েছে।
ট্রাম্পের দেওয়া ২০ দফা প্রস্তাব:
গাজা উপত্যকা একটি অস্থায়ী সরকারের অধীনে পরিচালিত হবে এবং ইসরায়েল অঞ্চলটি দখল করবে না। কাউকে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া উপত্যকাটিকে পুনর্নির্মাণ করা হবে। উভয় পক্ষ যদি প্রস্তাবটি মেনে নেয়, তবে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
প্রস্তাবে বলা হয়, হামাসকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে এর বিপরীতে ইসরায়েল যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ২৫০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। পাশাপাশি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর আটক করা আরও এক হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনিকেও ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এ সময়কালে ইসরায়েলি সেনারা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিতে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখবে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, শান্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হামাস সদস্যদের মুক্তি দেওয়া হবে। যারা মুক্ত হবেন না, তাদের জন্য নিরাপদ চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। গাজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত মাত্রায় মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ গাজায় পাঠানো হবে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহাবস্থানের জন্য আলোচনার পথ সহজ করবে। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন, এই ২০ দফা প্রস্তাব কার্যকর হলে গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বহু বছর ধরে চলতে থাকা রক্তপাতের অবসান ঘটবে।







