রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই বৈঠকে যদি রাশিয়া যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে সম্মত না হয়, তবে এর পরিণতি হবে খুবই ভয়াবহ।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামীকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাঙ্করিজ শহরে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকের আগে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে বুধবার ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে ফোনালাপে অংশ নেন ট্রাম্প। একই সময় তিনি কথা বলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও।
ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে যুক্ত ছিলেন- জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন, ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুত্তে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৩ আগস্ট) ওয়াশিংটন ডিসির কেনেডি সেন্টারে এক সাংবাদিক রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য রাজি করাতে পারবেন কি-না প্রশ্ন করলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আসলে বিষয়টা হল, আমি এর আগেও এই নিয়ে পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছি। অনেকবারই এই নিয়ে বেশ ভালো আলোচনা হয়েছে তার সঙ্গে। কিন্তু কথাবার্তার পরে আমি যখনই নিজের বাড়ি ফিরি, তখন দেখি একটা রকেট গিয়ে নার্সিংহোম বা কোনও অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে গিয়ে আছড়ে পড়ছে। তাই আমার মনে হয়, আপনি যে প্রশ্ন করছেন, তার জবাব হবে- না।
এসময় তিনি বলেন, তবে শুক্রবারের শীর্ষ সম্মেলনের পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যদি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে রাজি না হন তবে ‘খুব গুরুতর পরিণতি’ হবে।
বৈঠকের আলোচনার বিষয়টি তুলে ধরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ইউরোপীয় নেতাদের সাথে এই ভার্চুয়াল বৈঠকে ট্রাম্প ‘খুব স্পষ্ট’ ছিলেন যে আলাস্কায় আসন্ন মার্কিন-রাশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে যুদ্ধবিরতি অর্জন করতে চান তিনি।
এই বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ট্রাম্পের সাথে পরিকল্পিত বৈঠকের আগে পুতিন ‘চাপ প্রয়োগ করছেন’। তিনি বলেন, পুতিন ইউক্রেনীয় ফ্রন্টের সকল ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছেন, যাতে দেখানো যায় রাশিয়া সমস্ত ইউক্রেন দখল করতে সক্ষম।
যদিও ট্রাম্প-পুতিনের শুক্রবারের বৈঠকের পর আবার দ্বিতীয় পর্যায়ের বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন ট্রাম্প নিজেই। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দ্বিতীয় বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা ভালোই আছে এবং তা প্রথমটির চেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে। প্রথম বৈঠকে আমি বুঝে নেব আমরা কোথায় আছি, কী করছি। যদি প্রথম বৈঠক ভালো হয়, তাহলে খুব দ্রুতই দ্বিতীয় বৈঠক হবে- যেটি আমি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই করতে চাই, যদি পুতিন ও জেলেনস্কি রাজি থাকেন।
দ্বিতীয় বৈঠকে ত্রি-পক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। যেখানে ট্রাম্প-পুতিন এবং জেলেনস্কি যুক্ত থাকবেন। ট্রাম্প বলেন, শুক্রবারের বৈঠকে ‘কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’ অর্জিত হতে পারে, তবে এটি মূলত সম্ভাব্য ত্রি-পক্ষীয় বৈঠকের ভিত্তি তৈরির জন্য।







