যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ক্যাবিনেট বৈঠকে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যেসব কাগজপত্রবিহীন মানুষ কৃষিখামার ও হোটেলে কাজ করছেন, তাদের নিয়োগকর্তারা যদি সমর্থন করেন, তবে তারা দেশ ছেড়ে আইনি কর্মী হিসেবে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ১০ এপ্রিল রিপোর্টারদের উপস্থিতিতে ট্রাম্প বলেন, আমাদের কৃষক, হোটেল এবং অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রের কর্মীদের কথা ভাবতে হবে, যেখানে লোকবলের প্রয়োজন হয়।
তিনি আরও বলেন, ধরুন, একজন কৃষক কিছু নির্দিষ্ট লোক সম্পর্কে একটি চিঠি নিয়ে আসবেন, যেখানে বলা থাকবে—তারা অসাধারণ ও কঠোর পরিশ্রমী। আমরা তাদের জন্য প্রক্রিয়াটি কিছুটা ধীর করব এবং শেষ পর্যন্ত তাদের ফিরিয়ে আনব। তারা চলে যাবে এবং আইনি কর্মী হিসেবে ফিরে আসবে। তবে, তাদের জন্য প্রক্রিয়াটি কিছুটা ধীর করব।
এর মাধ্যমে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা পরিষ্কার নয়। ট্রাম্প প্রশাসন কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের ধরপাকড়, আটক ও নির্বাসনের জন্য বিপুল পরিমাণ সম্পদ ব্যয় করছে, যার লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বড় সংখ্যায় অভিবাসী বহিষ্কার করা।
ট্রাম্প বলেন, যদি কেউ সুন্দরভাবে চলে যায়, তবে প্রশাসন তাদের সাথে কাজ করবে। আমরা শুরু থেকেই তাদের আইনিভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব। এটি একটি বাস্তব প্রণোদনা হবে। নাহলে তারা আর কখনও ফিরতে পারবে না। একটি নির্দিষ্ট সময় পর, সম্ভবত ৬০ দিন পর, তাদের আর অনুমতি দেওয়া হবে না।
হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া
এনবিসি নিউজের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই জানান, ট্রাম্প প্রশাসন আমেরিকান জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যার মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষা, অভিবাসন আইন প্রয়োগ, অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অন্তর্ভুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে অভিবাসীরা কাজের সুযোগ পান, তবে নিয়োগকর্তারা এসব ব্যবহারে জটিলতা ও কড়াকড়ির অভিযোগ করেন। কৃষিকর্মী ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা এসব প্রক্রিয়ার উন্নতির জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছেন, যাতে শ্রমিকরা শোষণের শিকার না হন এবং মানবিক অবস্থায় কাজ করতে পারেন।
কর্মসূচির সংস্কার পরিকল্পনা
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প এইচ-২এ কর্মসূচি (যার মাধ্যমে কৃষি খাতে মৌসুমী শ্রমিক নিয়োগ করা হয়) ও এইচ-২বি কর্মসূচি (আতিথেয়তা ও পর্যটন খাতে অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ) সংস্কারের পরিকল্পনা করছেন। উল্লেখ্য, ট্রাম্প নিজেও এইচ-২বি কর্মসূচি ব্যবহার করেছেন।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম অবৈধ অভিবাসীদের জন্য অ্যাপের মাধ্যমে স্ব-নিবন্ধনের বিষয়ে কথা বলেন। এটি না করলে ফৌজদারি অভিযোগ ও জরিমানার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একজন ফেডারেল বিচারক এই অ্যাপ-নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে অনুমোদন দিয়েছেন।
পরিসংখ্যান ও বাস্তবতা
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০% শস্য খামারের শ্রমিকই কাগজপত্রবিহীন। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে আতিথেয়তা খাতে প্রায় ১১ লক্ষ কাগজপত্রবিহীন মানুষ কাজ করেছেন, যা মোট কর্মীর ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
প্রশাসন সম্প্রতি প্রায় ৩০০ জন অভিবাসীকে বহিষ্কার করেছে, যাদের অধিকাংশ ভেনেজুয়েলার নাগরিক। এদের মধ্যে কিছু গ্যাং ট্রেন দে আরাগুয়ার সদস্য বলে সন্দেহ করা হয়। ট্রাম্প ১৭৮৯ সালের এলিয়েন এনিমিজ অ্যাক্ট ব্যবহার করে এই নির্বাসন কার্যকর করেন, যদিও পরিবারগুলোর কিছু সদস্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) সম্প্রতি স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, বাসাবাড়ি এবং রাস্তায় অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করেছে। বিশেষ করে টেক্সাসের এক ল্যাটিনো-প্রধান এলাকায় ফেব্রুয়ারিতে ব্যাপক ধরপাকড় হয়েছে।
শিল্পপ্রধানদের চাপ ও প্রতিক্রিয়া
মহামারীর সময় দেখা গেছে, অনেক অপরিহার্য শ্রমিক ছিলেন ল্যাটিনো, যাদের অনেকে কাগজপত্রবিহীন। কৃষকরা ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং সামাজিক সেবা কর্মসূচিতে অর্থ কমানোর বিরূপ প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন।
মার্চ মাসে ব্যবসায়ী নেতারা “সিকিউর দ্য ওয়ার্কফোর্স” প্রচারণার অংশ হিসেবে কংগ্রেস সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন, যেখানে তারা অভিবাসী শ্রমিকদের কাজের অনুমতির দাবি জানান।
অ্যাটর্নি আর্টিমিও মুনিজ বলেন, আমরা যা দেখছি তা হলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন একটি নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু করছেন। আমরা এখন কাগজপত্রবিহীন শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে চাই, কারণ তাদের হারালে খরচ বাড়বে। আমি এই উদ্যোগকে সম্মান করি যে ট্রাম্প আলোচনায় আগ্রহী।








