এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসন এবং স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ (ইসলামাবাদ এমওইউ) নামে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
আজ (১৮ জুন) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, উভয় দেশের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই সমঝোতা স্মারকে সই করেন দুই নেতা।
জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে বর্তমানে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। প্যারিসের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে সমঝোতা স্মারকে সই করার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। আমি মাত্রই ভার্সাইয়ে এতে সই করেছি।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সই করেছেন।
অন্যদিকে তেহরানে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে সমঝোতা স্মারকে সই করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে দূরবর্তী অবস্থান থেকে দুই নেতা এই নথিতে স্বাক্ষর করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মাধ্যমে সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। এখন চুক্তির বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা যাচাইয়ের পালা। সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের স্বাক্ষর থাকায় চুক্তি লঙ্ঘনের রাজনৈতিক মূল্য অনেক বেশি হবে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হওয়া ১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারককে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ৮০০ শব্দের সংক্ষিপ্ত এ নথিতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের ওপর আরোপিত কিছু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কাঠামো তৈরির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সমঝোতা স্মারকটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।







