প্রায় এক দশক পর আবারও ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ২০১৭ সালের তুলনায় এবার পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। তখনকার চেয়ে এখন অনেক বেশি শক্তিশালী, প্রযুক্তিনির্ভর ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে চীন।
আজ (১৩ মে) বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবারও ট্রাম্পকে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। বেইজিংয়ের ক্ষমতার কেন্দ্র ঝোংনানহাইয়ে বৈঠকের পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
গত এক দশকে চীন কেবল অর্থনৈতিকভাবেই নয়, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক প্রভাবের ক্ষেত্রেও বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবট প্রযুক্তি এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে বিপুল বিনিয়োগ করে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে দেশটি।
বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর চংকিং এখন চীনের প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছে। পাহাড়ঘেরা এই শহরে দ্রুত নগরায়ণ, আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা ও রোবট প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা হয়েছে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগে। চীনের সাইবারপাঙ্ক রাজধানী হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে শহরটি।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্ট নীতিকে ঘিরে চীনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। অনেক চীনা নাগরিক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ ও বিভাজনমূলক নীতি উল্টো চীনের উত্থানকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এদিকে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাও এখন দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
বাণিজ্য খাতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর যুক্তরাষ্ট্র চীনের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ি উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে মধ্য এশিয়া হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে বেইজিং।
তবে সব অগ্রগতির মধ্যেও চীনের অর্থনীতি কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। আবাসন খাতের সংকট, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং কমে যাওয়া ভোক্তা ব্যয় দেশটির অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। পাশাপাশি সরকারবিরোধী মত দমনে কঠোর অবস্থান, নজরদারি ব্যবস্থা ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ নিয়েও সমালোচনা রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
তাই ট্রাম্পের এই সফর শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং ভবিষ্যৎ বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একদিকে আমেরিকা ফার্স্ট নীতি, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এগিয়ে যাওয়া চীন। এই দুই দর্শনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাই এখন বৈশ্বিক রাজনীতির নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।








